খলিফা সাগর:পটুয়াখালী।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ও বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা মোঃ সেলিম মুন্সীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর গলাচিপা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI), পটুয়াখালী-কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গলাচিপা উপজেলার ৯নং কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পেশায় সাংবাদিক মোঃ তছলিম আহমেদ (৪৯) বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মোঃ ইসমাইল ও রফিকুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তিকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সাজিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন প্রধান আসামি মোঃ সেলিম মুন্সী ও তার পরিবারসহ চক্রের সদস্যরা। স্থানীয় সংবাদকর্মী হিসেবে মোঃ তছলিম আহমেদ এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে এবং এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে প্রধান আসামি সেলিম মুন্সী ও তার দলবল ওই সাংবাদিককে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি প্রদান করে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে আইনের আশ্রয় নেন এই সংবাদকর্মী।
বিষয়
বিবরণ
সংশ্লিষ্ট আদালত
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, গলাচিপা, পটুয়াখালী।
মামলা নম্বর
সি.আর- ২২২/২০২৬
বাদী
মোঃ তছলিম আহমেদ (৪৯), পেশা: সাংবাদিক (সাং- কলাগাছিয়া, ২নং ওয়ার্ড)।
প্রধান আসামিগন
মোঃ সেলিম মুন্সী (৫৫), মোঃ মনির হোসেন (৪২), সীমা বেগম (৩৮) সহ মোট ১০ জন।
আইনী ধারা
দণ্ডবিধির ৪৬৭ / ৪৬৮ / ৪৭১ / ১০৯ / ১১৪ / ৩৪ (জালিয়াতি, ভুয়া নথি তৈরি ও প্রতারণা সংক্রান্ত)।
মামলাটি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান এবং তদন্তভার পিবিআই (PBI)-কে দেওয়া হয়েছে।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে রাষ্ট্রের টাকা আত্মসাৎ ও সত্য প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকির এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া সনদধারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
বর্তমানে মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে। আদালত থেকে পিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ায় মামলার প্রকৃত সত্য ও জালিয়াতির মূল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন বাদী পক্ষ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।