মোঃ মানিক মিয়া
পলাশ উপজেলায় রাস্তা থেকে এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও তার কান কামড়ে জখমের ঘটনার প্রধান আসামি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া শতাধিক মানুষ নিয়ে প্রকাশ্যে সমাবেশ করেছেন।
বেলা সাড়ে ১১টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘোড়াশাল পৌরসভার চরপাড়া রওশন জেনারেল হাসপাতাল ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে করা এ সভা থেকে মাদকমুক্ত পৌরসভা করার ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে মামলা তুলে না নিলে আসামি মহিউদ্দিন চিশতিয়া বাদী মিয়া মোহাম্মদ সজিবকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই দিন সভায় মহিউদ্দিন চিশতিয়া বলেন, ‘ড. আবদুল মঈন খান স্যারের আদর্শে রাজনীতি করার অর্থ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আমি, মো. মহিউদ্দিন চিশতী, বিন্দুমাত্র ভয় পাই না। কারণ যে রাজনীতিতে সততা ও নীতির শিক্ষা দিয়েছেন মঈন খান স্যার, সেই আদর্শই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যায়ের সাথে কোনো আপস নেই। আমি কোনো অন্যায় করিনি।’
এ সমাবেশের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, মামলার দায়েরের পরও গ্রেপ্তার না হয়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া বিশাল জনসভার আয়োজক ও প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন। জনসভায় তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে ৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন এবং তার সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার নানা স্লোগান দেয়।
সভার জনসমাগম ও তার বক্তব্যের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর ও আলোচিত মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার এভাবে জনসম্মুখে উপস্থিতি ও নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও তার ভয়ে এ বিষয় নিয়ে এলাকার কেউ মন্তব্য করতে নারাজ। একজন হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে মিছিল ও জনসভা করে বেড়ায়, তা বোধগম্য নয় বলে জানান স্থানীয়রা।
মামলার বাদী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিব অভিযোগ করে বলেন, অপহরণের পর ব্যবসায়ীর কানে কামড় ও হামলা হামলা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন প্রধান আসামি চিশতিয়া ও তার বাহিনী। মামলার প্রধান আসামি সোমবার হাজারো মানুষ নিয়ে সমাবেশ করেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি ।
তিনি আরও বলেন, মহিউদ্দিন চিশতিয়া মাদকমুক্ত ঘোষণা করবেন কী, সে নিজেই সন্ত্রাসী ও ঘোড়াশালে মাদকের জনক। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
জনসভা করার বিষয়ে জানতে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, মামলাটির পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। ওইদিন ৫ মিনিটের একটি সভা শেষে দ্রুত চলে যাওয়ায় প্রধান আসামি মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এলাকায় কেউ না থাকায় এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে থেকে বালু ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেনকে একদল লোক জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া ওই ব্যবসায়ীর কান কামড়ে রক্তাক্ত করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার কানে সেলাইসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পলাশ থানায় মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। ভুক্তভোগীর ব্যবসায়িক অংশিদার জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন।