রংপুরপ্রতিনিধি,
কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখে পরবে নড়েবড়ে জরাজীর্ণ একটা পাকা সেতু। সেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ রাস্তা বন্যার পানিতে ধসে যাওয়ায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করছে ১০ গ্রামের মানুষ। প্রায় ১০ বছর ধরে এমন জনদুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষ রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাউনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকার একমাত্র পাকা ব্রিজ। সেই জরাজীর্ণ ব্রিজটিও হেলে পরেছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পরতে পারে। জরাজীর্ণ ব্রিজটি এখন হাজারো মানুষের জন্য এক জীবন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজটির একটি অংশ একপাশে মারাত্মকভাবে হেলে পড়েছে। নড়বড়ে এই কাঠ বাঁশের সাঁকো সেতু দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ তৎকালীন সরকারের অর্থায়নে ও এলজিইডি’র বাস্তবায়নে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ওই বছরের জুন মাসে সেতুটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। সেতুটি নির্মাণের কয়েকবছর পর বন্যায় তিস্তার পানির তোড়ে সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও সেতুটির সংযোগ সড়ক মেরামত না করায় পথচারী এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশের সমন্বয়ে পাঠাতন বসিয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নিজেরাই সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে এলাকাবাসী। মৌলভীবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় বাধ্য হয়েই আতঙ্ক নিয়েই প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির এমন বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলায় ব্রিজটি দিয়ে চলাচল আরও বিপৎজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্রিজটির সংযোগস্থল মাটি ভরাট করে পাকাকরণ ও ব্রিজের সংস্কারের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই বছরের পর বছর পার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, এমন ঝুঁকিপুর্ণ সেতু দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন। এতো এতো দুর্ভোগ, কষ্ট অথচ এলাকার এমপি দেখেন না। কোনো উদ্যোগও গ্রহণ করেন না।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান জানান, সমস্যাটি সমাধানে পরিষদ থেকে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু বড় সেতু তৈরির টাকা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
৩৩ লাখ টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক; দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, নড়বরে পাকা সেতুটি ভেঙে ফেলে নতুন সেতু নির্মার্ণের জন্য প্রকৌশল দপ্তরে ৪ থেকে ৫ বার আবেদন করেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তারপরও চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজার এলাকায় নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনও হয়েছে। এছাড়াও ফিজিবিলিটি স্টাডি সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি ডিজাইন পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই টেন্ডার অনুমোদন হবে এবং এরপরই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।