মোঃ মামুন ভুঁইয়া,

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বনগ্রাম এলাকায় মাদকবিরোধী সমাবেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের অভিযানে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদি থানা পুলিশের একটি দল বনগ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ধৃত দুই ভাই মোবারক ও মহসিনের কাছ থেকে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যমতে, তারা পরনের ট্রাউজারের নেড়ার (কোমরের দড়ি) অংশে মালার মতো করে ইয়াবা গেঁথে তা বহন করছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তবে পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই কৌশল ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বড় ভাই মজিবুর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই মাস আগে কটিয়াদি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হওয়ার পর থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ধৃত দুই ভাইয়ের পাশাপাশি তাদের মা-ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে বিকেলে বনগ্রামে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তারা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও জনসাধারণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সমাবেশের পরপরই পুলিশের সফল অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা।
কটিয়াদি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কটিয়াদিতে মাদকের কোনো স্থান নেই। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী কিংবা পৃষ্ঠপোষক—যেই হোক, কারও প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে কটিয়াদি থানার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।