দিনাজপুরপ্রতিনিধি,

একসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, তীব্র রোদ কিংবা মৌসুমি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানসম্মত সবজির চারা উৎপাদন ছিল কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পলি নেট হাউজ সেই চিত্র বদলে দিতে শুরু করেছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ কৃষিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এখন বছরজুড়েই নিরাপদ পরিবেশে রোগমুক্ত ও উন্নতমানের চারা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কৃষক যেমন ঝুঁকিমুক্তভাবে চাষাবাদ করতে পারছেন, তেমনি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

বিরল উপজেলার ১০ নম্বর রানিপুকুর, ৮ নম্বর ধর্মপুর এবং ৩ নম্বর ধামইড় ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক পলি নেট হাউজ। এখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারাবছরই উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা। লাউ, কুমড়া, পেঁপে, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপির পাশাপাশি অফ-সিজনেও উৎপাদিত হচ্ছে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের সবজির চারা।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব অনেকটাই এড়িয়ে স্বাস্থ্যবান ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা যায়। ফলে কৃষকরা শুরু থেকেই ভালো মানের চারা পেয়ে অধিক ফলনের আশা করতে পারছেন। উৎপাদিত চারাগুলো শুধু বিরল নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকেও কৃষকরা সংগ্রহ করতে আসছেন। অনেকেই আগাম বুকিং দিয়ে চারা নিচ্ছেন।

পলি নেট হাউজভিত্তিক ফারমার্স হাব-এর স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হক বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রথমে আমি পলি নেট হাউজ স্থাপন করার উদ্বুদ্ধ হই। এখন পর্যন্ত আমি ভাল ভাবে চারা বিক্রি করতে পারছি। শুধু বিরল উপজেলা নয়, পার্শবর্তী জেলা থেকে কৃষকরা আমার কাজ থেকে চারা নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এমদাদুল হক মানসম্মত ও রোগমুক্ত চারা স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করছেন। এসব চারা দিয়ে তারা ভালো ফলনও পাচ্ছেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই অনেক কৃষক এই পলি নেট হাউজ পরিদর্শনে আসছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন।

বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে জয়পুরহাটের কৃষকদের

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, আধুনিক কৃষিতে পলি নেট হাউজ একটি কার্যকর প্রযুক্তি। কৃষি অফিস থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত করতে আমরা কাজ করছি, যাতে অধিকসংখ্যক কৃষক এর সুফল পেতে পারেন।