চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রতিনিধি,
চুয়াডাঙ্গায় পথসভায় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। ছবি: ঢাকা মেইল
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেছেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি হয়েও যখন এরশাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাহলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে কেন গ্রেফতার করা যাবে না?
রবিবার রাত ৯টায় এনসিপি আয়োজিত উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চুপ্পু নিজে যেমন সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা বলছেন, তেমনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করা যায় না।
তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন হলো, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করার পরও কি তিনি রাষ্ট্রপতি আছেন? বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে তো আমরা গ্রেফতারের কথা বলিনি।
গণভোট এখন বিএনপি আর মানতে চায় না: আখতার হোসেন
সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাকে গ্রেফতারে কোনো আইনি বাধা নেই। তাই ৫১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেফতার ঠেকানো যাবে না বলে যোগ করেন এনসিপির এই অন্যতম্ শীর্ষ নেতা।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, আমরা কখনো সংবিধানের ভেতরে থেকে সংবিধান সংস্কারের কথা বলিনি। বরং সমাধান না থাকায় আমরা জনগণের কাছে গিয়েছিলাম। সংবিধানের চেয়ে জনগণ বড়। জনগণ যখন রায় দিয়েছে, তখন সেই গণরায়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, জাতীয় ছাত্র শক্তির সভাপতি জাহিদ হাসান, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মাহামুদা মিতু এমপি, এনসিপি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আমিরুল বাসার বিপ্লব এবং সদস্য সচিব আলমগীর হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।