মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও চরম দুর্ভোগে আছেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার জনগণ। নাগরিক সেবা বলতে কিছুই নেই। পানি, রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক বাতিসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত মানিকগঞ্জ পৌরসভা। বেশির ভাগ এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী থাকলেও সংস্কারের ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিটি রাস্তা ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে পানি জমে রাস্তা ঘাট অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যায়।
পৌর সভা সূত্রে জানা যায় পৌর এলাকায় ৩৪৭ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। যার মধ্যে ২২৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। কাঁচা, পাকা সব রাস্তার চিত্র একই। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাস্তাগুলি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় মানিকগঞ্জের তিনটি প্রধান সড়কের মধ্যে সবগুলোই ভাঙা চোরা। শহরের ব্যবসায়ীরা বলেন, শহীদ রফিক সড়ক ও গঙ্গাধর পট্টি পিচঢালা ভাল সড়কটি কার স্বার্থে ভেঙে ব্লক বসানো হলো আজও তা অজানা। আগে কিছুটা ভালো থাকলও ব্লক বসানোর পর থেকেই মূলত রাস্তা দুটির সমস্যা দেখা দেয়।
বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। কোথাও উঁচু-নিচু, কোথাও ভাঙাচোরা। এ দুটি রাস্তায় রিকশা, অটোরিকশায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। অসমতল রাস্তায় ঝাঁকুনির কারণে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। শহরের সরকারি গার্লস স্কুল রোডের একই চিত্র।
এ ছাড়া শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের অবস্থা আরো শোচনীয়। অনেক স্থানে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানিতে ভিজে ছাড়া অনেকেই বাড়ি থেকে বের হতে পারেন না।
শহরের নারাঙ্গাই এলাকার বাসিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিদুর রহমান বলেন, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধে করে যাচ্ছি। নাগরিক সেবা বলতে কিছুই নেই। একটু বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ দিন পানিতে আটকে থাকতে হয়। বার বার বলার পরও কোন সমাধান নেই।
মানিকগঞ্জ শহর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুদ্দিন রেজা বলেন, প্রতি বছর করের বোঝা বাড়লেও সেবা বাড়েনি। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাঁচা বাজার হইতে উত্তর সেওতা কবরস্থান রাস্তাটি বহুদিন যাবত চলাচলের অনুপযোগী। সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই।
রুহুল আমীন বাবু বলেন একটু বৃষ্টি হলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না। রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। ১ মাসেও পানি নামে না। বন্ধ হয়ে যায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া।
মত্ত এলাকার ব্যবসায়ী হযরত আলী (৭২) বলেন, বাজার গোডাউন থেকে কাচারি মাঠে প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাতায়াত করি। গাড়িতে উঠলেই মনে হয় এই বুঝি পড়ে গিয়ে জীবন প্রদীপ নিভে যাবে। মাঝে মধ্যে ভাঙা রাস্তায় নিম্নমানের কিছু কাজ হলেও মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সেই আগের অবস্থায় চলে যায়।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরল ইসলাম বলেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রাস্তা খুবই খারাপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। যার কারণে রাস্তা টেকসই হয়নি।
তিনি আরোও বলেন, আমি অল্প কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। নাগরিকদের সেবা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিগত ২৩-২৪,২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রায় ১শত কোটি টাকার কাজ চলমান। কিন্তু ঠিকাদার কাজ করছেন না। মাত্র ২২শতাংশ কাজ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজগুলি সম্পূর্ণ করা হবে। এছাড়াও আগের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।