মোঃ মামুন ভুঁইয়া কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
মানুষ হাসপাতালে আসে সুস্থ হওয়ার আশায়। কেউ আসে অসুস্থ শরীর নিয়ে, কেউ আসে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে, আবার কেউ প্রিয় মানুষটিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে। কিন্তু তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে যে দৃশ্য চোখে পড়লো, তা দেখে মনে হয়েছে এখানে এসে একজন রোগী শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়বে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। মেঝেতে ময়লা, বিছানার চাদর অপরিষ্কার এবং রোগীদের নিয়মিত পরিচর্যার ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রয়োজনের সময় অনেক রোগী ও স্বজনকে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
নেই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় কোথাও ফ্যান নষ্ট, কোথাও বাতি অচল। গরমে রোগীরা কষ্ট পেলেও দেখার কেউ নেই। ওয়ার্ডগুলোতে ন্যূনতম পরিবেশটুকুও নেই।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বাথরুমে:*
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো হাসপাতালের বাথরুমের অবস্থা। বাথরুমগুলো এতটাই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর যে সেখানে প্রবেশ করাও কষ্টকর। একজন রোগী কিভাবে এখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
কোথায় যাচ্ছে বরাদ্দের টাকা?*
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন জাগে, সরকার প্রতিবছর স্বাস্থ্যখাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তাহলে সাধারণ মানুষ কেন এমন দুর্ভোগের শিকার হবে? এই বরাদ্দের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে? কেন একটি উপজেলা হাসপাতালেও মানুষ ন্যূনতম পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মানসম্মত সেবা পাবে না?
কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান
এই লেখা কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়। তাড়াইলের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুন। হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার দ্রুত উন্নয়ন করুন।
হাসপাতাল মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। সেই ভরসার জায়গাটি যেন অবহেলা, অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্ব্যবস্থাপনার প্রতীক না হয়। তাড়াইলের মানুষ একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মানবিক হাসপাতাল পাওয়ার অধিকার রাখে।
বিস্তারিত আসছে পরবর্তী নিউজে