রংপুর জেলা প্রতিনিধি :

রংপুরের পীরগাছা থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ভুক্তভোগীকে খুঁজতে গিয়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করেছেন নিহতের স্বজনরা।

শনিবার সকালে ওই নেতার মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের এক পর্যায়ে তারা থানার সামনের সড়ক অবরোধ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ জানায়, ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের এক অভিভাবক তার মেয়ে (১৫)-এর নিঁখোজ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় জিডি করেন। সেই জিডির সূত্র ধরে পীরগাছা থানার পুলিশ সদস্যরা সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে পুলিশ জানতে পারে, ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়েছে। পরে দেখা যায়, ছাদ থেকে মনোয়ারুল বকশি পড়েছেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

নিহত মনোয়ারুল বকশি সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন।

তবে নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত মনোয়ারুল বকসির ভাগ্নে পীরগাছার মোংলাকুটি গ্রামের শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সাথে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন।

স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সাথে মেয়েটির বাবাসহ দুজন ছিলেন। তারাও পুলিশের পোশাকে ছিলেন। তারা মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনার দায় পুলিশ এড়াতে পারে না। তারা এই হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আইনগতভাবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এ ব্যাপারে নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। পুলিশ সদস্যদের এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা- তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।