ঝালকাঠিপ্রতিনিধি :
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজের প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঝালকাঠি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট টেন্ডারটি বাতিল করে পুনরায় (রি-টেন্ডার) আহ্বান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিচালন বাজেটের আওতায় (৭০১৬) দুটি পৃথক উন্নয়ন কাজের জন্য ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) অনুযায়ী গত ১৭ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং নলছিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ওয়াল নির্মাণ ও বালু ভরাট কাজে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
সূত্র জানায়, কাঠালিয়ার টেন্ডারে চারজন এবং নলছিটির টেন্ডারে ৩২ জন ঠিকাদার অংশ নেন। দুটি কাজেই অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিগত পাঁচ অর্থবছরে গড় বার্ষিক টার্নওভার ন্যূনতম ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা থাকার শর্ত ছিল।
এ বিষয়ে আরএম ট্রেডিংয়ের প্রতিনিধি মো. সুমন হাং অভিযোগ করে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রকল্প পরিচালকের দেওয়া কার্যসম্পাদন সনদে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সনদে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তার দাবি, কাজ সম্পাদনের সনদেই প্রয়োজনীয় আর্থিক তথ্য ও পরিশোধের বিবরণ থাকা সত্ত্বেও তাদের লাইসেন্স প্রথমে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে পৃথক পেমেন্ট সার্টিফিকেট না থাকার অজুহাতে টেন্ডারটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে নলছিটির টেন্ডার মূল্যায়নেও তাদের প্রতিষ্ঠানকে নন-রেসপনসিভ ঘোষণার পথ তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম বলেন, “আরএম ট্রেডার্সের কার্যসম্পাদন সনদ যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়ায় তাদের লাইসেন্স রেসপনসিভ করা হয়েছিল। তবে পিপিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক পেমেন্ট সার্টিফিকেট দাখিল না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে।”
কাজ সম্পাদনের সনদে পেমেন্ট-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকলেও পৃথক পেমেন্ট সার্টিফিকেটের অভাবে নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করা কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।