ক্রীড়া ডেস্ক ;

বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ইংল্যান্ড জো রুটকে আবারও টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে হ্যারি ব্রুক আসন্ন বিশ্বকাপের দিকে মনোযোগ রেখে সাদা বলের দলের নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন।

২৭ বছর বয়সী ব্রুক বছরের শুরুর দিকে আশা প্রকাশ করেছিলেন, তাকে সব ফরম্যাটে স্টোকসের উত্তরসূরি করা হতে পারে। তবে নির্বাচক মার্কাস নর্থ ব্যাখ্যা করেছেন, সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্বের চাপ তার ওপর না চাপানোর লক্ষ্যেই তাকে কেবল সাদা বলের দলের দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ব্রুক এখনও টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার অন্যতম দাবিদার।

অধিনায়কত্ব বিষয়ক এই সিদ্ধান্ত এবং নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটনের একটি নাইটক্লাব-কেন্দ্রিক ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রুক কথা বলেছেন। নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে ওই ঘটনা কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করলেও, তিনি রুটকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফিরে আসা অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিবিসি স্পোর্টসকে ব্রুক বলেন, জানি না। সত্যি বলতে, আমি জানি না। আমি বিষয়টিকে আসলে সেভাবে দেখি না। রুটকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটি সঠিক। তিনি কী করতে পারেন, তা দেখার জন্য আমি সত্যিই খুব আগ্রহী। এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনিই নিঃসন্দেহে সঠিক ব্যক্তি। তার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

ওয়েলিংটনের ঘটনার পরবর্তী কঠিন সময়টি ব্রুকের চরিত্র ও দৃঢ়তার পরীক্ষা নিয়েছিল। বাড়িতে থাকাকালীন গণমাধ্যমের কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াটা কতটা কঠিন ছিল, তা তিনি তুলে ধরেন। তবে সেই সময়ে নিজের প্রতিক্রিয়া এবং সাদা বলের ফরম্যাটে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে মাঠ ও মাঠের বাইরে অধিনায়কত্বের সঙ্গে জড়িত গুরুদায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলে।

ব্রুক বলেন, সময়টা বেশ কঠিন ছিল, বিশেষ করে যখন আমি বাড়িতে ছিলাম এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওই পুরো সময়জুড়ে আমি যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি, মাঠে নেমে ভালো পারফর্ম করা এবং সাদা বলের দলকে বেশ ভালোভাবে নেতৃত্ব দেওয়া, তা নিয়ে আমি ও আমার দল গর্বিত। আমি এটা বলতে চাই না, ঘটনাটি আমাকে সাহায্য করেছে, তবে এটি আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হওয়াটা কতটা বড় বিষয়। এটি কেবল মাঠের নেতৃত্ব নয়; মাঠের বাইরেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারলে তা বিশাল পার্থক্য গড়ে দেয়।

ব্রুক সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনগণের চুলচেরা বিশ্লেষণের বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন,ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার সময় তিনি অনলাইনে নিজের সম্পর্কে হওয়া সমালোচনার চক্রে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যা তার পারফরম্যান্স ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

এরপর থেকে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ধরন বদলে ফেলেছেন; তিনি এখন আর নিজের সম্পর্কে করা মন্তব্য বা আলোচনা সক্রিয়ভাবে খোঁজেন না। তবে এটাও বোঝেন, এই ধরনের চুলচেরা বিশ্লেষণ আসলে তার ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ।

ব্রুক বলেন, আইপিএলে থাকার সময় মানুষের কড়া সমালোচনা আর সোশ্যাল মিডিয়ার গোলকধাঁধায় আমি কিছুটা জড়িয়ে পড়েছিলাম। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে কোনো জায়গাতেই তা আমার জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরোপুরি দূরে থাকব না ঠিকই, কিন্তু নিজে থেকে গিয়ে সেসব দেখার চেষ্টাও করব না। তবে অন্যভাবে দেখলে, মানুষ যখন আমার খেলা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বা মতামত দেয়, তখন আমি বিষয়টিকে এক ধরনের প্রশংসাই মনে করি।

ডানহাতি এই ব্যাটার বলেন, আমি জানি, মানুষ যখন বাজে কথা বলে বা সমালোচনা করে তখন তা শুনতে বা দেখতে ভালো লাগে না; কিন্তু এর অর্থ হলো মানুষ আমার ব্যাপারে আগ্রহী এবং তারা মনে করে যে, ওই নির্দিষ্ট দিনে আমি যতটা ভালো খেলেছি, তার চেয়েও ভালো কিছু করার সক্ষমতা আমার আছে।

নিজের ব্যক্তিগত গুণাবলী ও খেলার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রুক নিজেকে একজন সৎ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, তার এই সোজাসাপ্টা স্বভাব কখনও কখনও জটিলতা তৈরি করেছে, তবে সততাকে তিনি নিজের চরিত্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলেই মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমর্থকরা যখন হতাশা প্রকাশ করেন, তখন সেই হতাশা তিনি নিজেও তীব্রভাবে অনুভব করেন।

ব্রুক ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝা এবং পিচের আচরণ দ্রুত আঁচ করার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর কাজ করছেন। তিনি জানেন, মাঠজুড়ে শট খেলার মতো কারিগরি দক্ষতা তার আছে; তবে সেই শটগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য ম্যাচের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একজন ব্যাটার হিসেবে নিজের উন্নতির ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ব্রুক বলেন, আমি সত্যিই এই বিষয়টিতে কাজ করার চেষ্টা করছি, কীভাবে পরিস্থিতি আরও দ্রুত বোঝা যায় এবং পিচকে আরও ভালোভাবে পড়া যায়। মাঠে নামার আগেই যেন বুঝতে পারি কোন শটগুলো খেলা কঠিন হবে আর কোনগুলো সহজ। মাঠের সবদিকেই বল মারার ক্ষমতা আমার আছে, শুধু ম্যাচের সময় দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ, হয়তো তাই। আমি নিশ্চিতভাবেই এখনও পুরোপুরি নিখুঁত বা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, আর হয়তো কখনও পৌঁছাবও না। ছোটবেলায় হেডিংলিতে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ‘বাজ’-এর (ব্রেন্ডন ম্যাককালাম) খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। ম্যাথিউ ফিশার তার প্রথম ওভারেই তাকে আউট করে দিয়েছিলেন। আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। আমি তো শুধু তাকেই দেখতে গিয়েছিলাম। আউট হওয়ার পর বাবাকে বলেছিলাম, আমরা কি বাড়ি ফিরে যেতে পারি? একজন ক্রিকেট-ভক্ত হিসেবে আমি বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝি।