মঈনউদ্দিন মনি,

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তার ভেরিফাই পেজে শরিয়া আইনের ব্যখ্যা করতে গিয়ে বলেন, শরিয়ার নামে বিকৃত অপব্যাখ্যা করছে ইসলামের ছদ্মনামে ইসলামের শত্রু মোনাফেক ওয়াবিবাদ সালাফিবাদ মওদুদিবাদ তালেবান কুফরি চক্র।শরিয়ার অনেক স্তর আছে। কিছু বিষয় নীতিগত কিছু বিষয় আদেশ নিষেধগত কিছু বিষয় কর্মগত কিছু বিষয় পদ্ধতিগত। শরিয়া মানে জীবন ও জগতের প্রাকৃতিক বিধান, ন্যায়ের বিধান, কল্যাণের বিধান, সুরক্ষার বিধান।

 

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, শরিয়ার কিছু মৌলিক বিষয় আল্লাহতাআলার পক্ষ থেকে, কিছু বিষয় আল্লাহতাআলার মহান রাসুল প্রাণাধিক প্রিয়নবীর পক্ষ থেকে, কিছু বিষয় কোরআনুল করীম ও হাদিস শরীফের নীতি সূত্রের আলোকে সত্যের ইমামবৃন্দের এজমা কেয়াসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। শরিয়ার সাথে দ্বীন ও জীবনের সবকিছুই জড়িত। শরিয়া মানে কেবল দন্ডবিধান নয়। দন্ডবিধান শরিয়ার মূল ও প্রধান বিষয় নয়। মানুষকে অন্য মানুষের ব্যক্তিগত সামাজিক রাষ্ট্রীয় অন্যায় অবিচার জুলুম শোষণ স্বৈরদস্যুতা থেকে রক্ষাই শরিয়ার মূল ও প্রধান বিষয়।

 

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, শরিয়ার অনেক অধ্যায় আছে। শরিয়ার কিছু বিষয় স্থায়ী ও চিরন্তন আর কিছু বিষয় অস্থায়ী ও স্থান কাল পরিস্থিতি প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে পরিবর্তনশীল।শরিয়ার ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় অধ্যায় আছে। শরিয়ার হালাল হারাম গত বিষয় আছে, অর্থনৈতিক বিষয় আছে এবং আদেশ নিষেধগত বিষয় ও কর্মপদ্ধতিগত বিষয় আছে।শরিয়ার ব্যক্তিগত বিধান ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয় । শরিয়ার ব্যক্তিগত বিধান রাষ্ট্র কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া আল্লাহতাআলা নিষিদ্ধ করেছেন। জীবনের সবকিছুই ঈমানের পর শরিয়ার সাথে জড়িত। তবে শরিয়ার ব্যক্তিগত বিষয় পালন বা না পালন বান্দার সাথে কেবল আল্লাহ ও তাঁর মহান রাসুলের হিসাবের বিষয়,অন্য কারো বিষয় নয়।

 

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দ্বীন শরিয়ার ব্যক্তিগত বিষয়ের উর্ধে অন্যদের হক পালনের বিষয় এবং অন্য কারো ক্ষতি করা বা অন্যদের অধিকার লংঘন করার বিষয়। দ্বীন শরিয়ার ভিত্তিতে অন্যদের হক ও দায়িত্ব পালন এবং অন্যদের ক্ষতি করার বিষয় শরিয়ার নিছক ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং তা সামষ্টিক বিষয় যার সাথে অন্যদের জীবন জড়িত বিধায় খুবই মৌলিক বিষয় অলংঘনীয় বিষয়। অন্যদের জীবনের অধিকার ও দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতার জন্য রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োজন হয় বা লংঘন হলে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বা আদালতের হস্তক্ষেপও প্রয়োজন হয়।শরিয়ার মৌলিক রাষ্ট্রীয় বিধান সব মানুষের কল্যাণে মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল রাষ্ট্র। ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ শরিয়তের লংঘন শরিয়তের বিপরীত। ব্যক্তিগত জীবনের শরিয়ত রাষ্ট্রের আওতার বাইরে। রাষ্ট্রের মূল শরিয়ত সব মানুষের জীবন ও অধিকার রক্ষা করা। রাষ্ট্রের শরিয়া সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের জীবনের নিরাপত্তা-স্বাধীনতা-অধিকার- মর্যাদা খেলাফতে ইনসানিয়াত state and world of universal humanity based on authority of every life.

 

শরিয়া আইন রুদ্বতা পরাধীনতা নয়। শরিয়া আইনের নামে ওয়াবিবাদ সালাফিবাদ শিয়াবাদ মওদুদিবাদের মারাত্মক বিকৃতি ও উল্টা ধারা আছে যা শরিয়ত নয় বরং শরিয়তের নামে শরিয়ত লংঘন শরিয়ত ধ্বংস করা।শরিয়ার ভিত্তি সবকিছুর উর্ধে রাষ্ট্রেরও উর্ধে জীবনের স্বাধীনতা। শরিয়ার মূল ভিত্তি স্রষ্টার নামে স্রষ্টার রাসুলের রহমত হিসেবে যার জীবন তার, জীবনের উপর আল্লাহ ও তাঁর মহান রাসুল ছাড়া আর কারো কর্তৃত্ব নাই। মানুষের উপর থেকে মানুষের প্রভূত্ব মালিকানা উৎখাত করে স্রষ্টার নামে স্রষ্টার রহমত মহান রাসুলের আলোকধারায় সম্মিলিত দায়িত্বের ধারায় প্রত্যেকের জীবনের আত্মমালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং সব অন্যায় আধিপত্য ও সকল অবিচার রুদ্বতা স্বৈরতা দস্যুতা থেকে প্রতিটি জীবন রক্ষাই শরিয়ার প্রধান ও মূল উদ্দেশ্য। জীবনের স্বাধীনতা না থাকলে সত্যের স্বাধীনতা থাকেনা। জীবনের অধিকার স্বাধীনতা না থাকলে সত্য ও জ্ঞান এবং ন্যায়ের মুক্ত প্রবাহ থাকে না বরং রুদ্ধ হয়ে যায়।

শরিয়ার নামে বিকৃত অপব্যাখ্যা করছে ইসলামের ছদ্মনামে ইসলামের শত্রু মোনাফেক ওয়াবিবাদ সালাফিবাদ মওদুদিবাদ তালেবান কুফরি চক্র।