বাগেরহাট প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের কচিখালী বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গভীরে হরিণ শিকারের মালাফাঁদ পেতে ভাত খেতে বসেছিলো ৫ জন চোরা শিকারী। বনরক্ষীদের দেখতে পেয়ে ভাতের থালা ফেলে শিকারীরা দৌড়ে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বনরক্ষীরা উদ্ধার করেছে হরিণ ১২০০ ফুট মালা ফাঁদ, বরফ ভর্তি একটি ককসিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

বুধবার সন্ধ্যার কিছু আগে এ ঘটনায় সুন্দরবনে হরিণ শিকারের বড় আয়োজন নস্যাত করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবন শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড কচিখালী বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনরক্ষীরা বুধবার (১৯ আগষ্ট) বিকেলে পায়ে হেটে দরজার খাল ও বাহির সুখপাড়ার মধ্যবর্তী গভীরে টহল দিতে শুরু করে। সন্ধ্যার কিছু আগে তারা বনের মধ্যে শিকারীদের পেতে রাখা হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ দেখতে পায়। বনরক্ষীরা এগিয়ে গিয়ে বনের মধ্যে তল্লাশী শুরু করে। এ সময় বনের মধ্যে সুন্দরী গাছের আড়ালে ভাত খাওয়ারত অবস্থায় আকষ্মিক ভাবে বনরক্ষীদের দেখতে পেয়ে পাচজন অজ্ঞাত পরিচয়ের চোরা শিকারীরা ভাতের থালা ফেলে দৌড়ে সুন্দরবনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে শিকারীদের পেতে রাখা ১২০০ ফুট মালা ফাঁদ, দুইটি ধারালো চাকু, একটি দা, একটি ককসীট ভরা বরফ, ছয় কেজি পলিথিন, হাত করাত একটি, সিদ্ধ করা আলুসহ হাড়ি ভরা রান্না করা ভাত ও ১০ কেজি চাউল এবং টংঘর বানানোর সামগ্রী জব্দ করেন।

পূর্ব সুন্দরবনের কচিখালী বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার দিলীপ মজুমদার জানান, ভাত খাওয়া অবস্থায় বনরক্ষীদের দেখতে পেয়ে শিকারীরা ভাতের থালা ফেলে ভো দৌড় দেয়। অবস্থা দৃষ্টে এসব চোরা শিকারী বড় ধরনের শিকার পরিকল্পনা নিয়ে সুন্দরবনে এসেছিলো বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিপুল পরিমান হরিণ শিকারে মালা ফাঁদ উদ্ধার হওয়ায় শিকারীদের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার করা হরিণ ধরার মালা ফাঁদ আগুনে পুড়িয়ে ধংস করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড কচিখালী বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য জুড়ে টহল জোরদার কারা হয়েছে বলেও জানান এই বন কর্মকর্তা।