নিজস্ব প্রতিবেদক :

শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে অন্তত ২৫টি ধাপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পুরো আয়োজনের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শপথ নেবেন মাত্র একজন, সময় লাগবেও কয়েক মিনিট। অথচ সেই কয়েক মিনিটের অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রায় এক মাস ধরে চলে নানা প্রস্তুতি। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া, আসনবিন্যাস, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও আপ্যায়ন-সবকিছুতেই থাকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ছাপ। বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় কয়েক মিনিটেই। তবে এই সংক্ষিপ্ত আয়োজনের নেপথ্যে চলে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে অন্তত ২৫টি ধাপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পুরো আয়োজনের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তার নেতৃত্বে কাজ করে একটি বিশেষ সাবকমিটি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই শুরু হয় এই প্রস্তুতি। প্রথমে শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়। এরপর তৈরি করা হয় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা। আমন্ত্রণপত্র ছাপানো, তা অতিথিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করাও এই প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিদেশি কূটনীতিকসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘টেলিভিশনের পর্দায় রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান যতটা সহজ ও সংক্ষিপ্ত মনে হয়, এর পেছনের প্রস্তুতি ততটা সহজ নয়। কয়েক মিনিটের অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের একাধিক দফতরকে রাত-দিন কাজ করতে হয়।’

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অতিথিদের তালিকা ও প্রটোকল ঠিক রাখা। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণের বিষয়টিও আয়োজকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। অনেক নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে আসতে চান। কিন্তু বঙ্গভবনের দরবার হলের ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয় না।

বর্তমানে বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রায় ৭০০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বাড়তি অতিথিদের জন্য দরবার হলের ভেতরে আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দরবার হলে জায়গা না পাওয়া অতিথিদের জন্য বঙ্গভবনের বারান্দা ও মাঠে প্যান্ডেল করা হয়েছে। সেখানে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে আমন্ত্রিত অতিথিরা দরবার হলের বাইরে থেকেও শপথ অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন।

আসন নির্ধারণের পরও সবাইকে নির্ধারিত জায়গায় বসানো সব সময় সহজ হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিকেরা উপস্থিত থাকেন। অনেকেই নির্ধারিত আসনে বসতে চান না। শপথের দিন এটিও আয়োজকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে শুরু হবে আপ্যায়নপর্ব। বঙ্গভবনের দরবার হলের বারান্দা এবং মাঠে স্থাপিত প্যান্ডেলে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে।