কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জে নিরপরাধ গ্রাহকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুৎ মামলা দিয়ে হয়রানি, মানহানি এবং আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান ইবনে আজিজের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত) শেখর রঞ্জন পাল মামলাটির তদন্ত শেষে বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ঘটনার পটভূমি ও মিথ্যা মামলা:
নথিসূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের চরশোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় সাংবাদিক মো. ফয়জুল কবির ভূঁইয়া এবং তার ভাই মো. হাবিবুর রহমান একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করে বৈধভাবে মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলেন। বিপিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, কিশোরগঞ্জের তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী মো. আহসান ইবনে আজিজ উক্ত বাসায় অবৈধ সংযোগের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ আদালতে (যুগ্ম জেলা জজ) মো. হাবিবুর রহমান ও মো. কবিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে মিথ্যা প্রমাণ ও খালাস:
পরবর্তীতে আসামিপক্ষ আদালতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানালে আদালতের নির্দেশে বিপিডিবির ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত তদন্ত কমিটি সরজমিনে পরিদর্শন ও কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে, গ্রাহকরা বৈধভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন এবং কোনো অবৈধ সংযোগের আলামত পাওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিদ্যুৎ আদালত (যুগ্ম জেলা জজ) উক্ত মামলা থেকে আসামিদের পূর্ণ খালাস ও দায়মুক্তি প্রদান করেন।
মানহানি ও আর্থিক ক্ষতিসাধনের মামলাঃ ভিত্তিহীন মামলায় হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মানসিক আথিক ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক মোঃ ফয়জুল কবির ভুঞা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ সিআর ট্রাইব্যুনাল ১ম আদালতে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আহসান ইবনে আজিজ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ২১১/৫০০ ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং -২৬৮/২৫ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কিশোরগঞ্জ মডেল থানাকে নির্দেশ দেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনঃ আদালতের নির্দেশে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন পাল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,বিপিডিবি টাঙ্গাইল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এ বর্তমানে কর্মরত সরকারি প্রকৌশলী মোঃ আহসান ইবনে আজিজ ( তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিবাদীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সংযোগের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ২১১( মিথ্যা মামলা করা) ও ৫০০ (মানহানি ) ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে ।সরকারি পদে থেকে ব্যক্তি স্বার্থ বা আক্রোশ মেটাতে সাধারণ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সুশীল সমাজ ।