বগুড়াপ্রতিনিধি

রোপা-আমন মৌসুমে বগুড়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধানের চারার সরবরাহ বাড়লেও দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অতিবৃষ্টি, প্রচণ্ড রোদ ও বন্যার পানিতে অনেক কৃষকের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বাজার থেকে চারা কিনতে হচ্ছে। আর এ সুযোগে চারার দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

বগুড়ার বিভিন্ন হাটে বর্তমানে ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৮৯, ৯২, রঞ্জিতসহ বিভিন্ন স্থানীয় জাতের ধানের চারা প্রতি পণ (৮০ আঁটি) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সুগন্ধি সাদা ও কালো ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে প্রতি পণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বাড়তি দামে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে।

কৃষকেরা জানান, চলতি মৌসুমে বীজতলা তৈরিতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। প্রচণ্ড রোদে অনেক বীজতলা শুকিয়ে গেছে। আবার অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে আরও অনেক বীজতলা। ফলে নিজস্ব চারা না থাকায় এখন হাট থেকে বাড়তি দামে চারা কিনতে হচ্ছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৪ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে ১১ হাজার ৮৮০ পণ চারার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

চলতি আমন মৌসুমে বগুড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৮ মেট্রিক টন। এরই মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। ভাদ্র মাসের শেষ নাগাদ চারা রোপণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, গাবতলী, শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে এখন আমনের চারা কেনাবেচা জমে উঠেছে। বিশেষ করে সোনাতলা উপজেলার হরিখালী, তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্লা হাটে ভ্যান, ট্রলি ও বাইসাইকেলে করে শত শত আঁটি ধানের চারা নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।

সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাটে চারা কিনতে আসা হুয়াকুয়া গ্রামের কৃষক মুছা মণ্ডল বলেন, রোদ ও পানিতে তাঁর নিজের বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো রক্ষা করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে হাট থেকে চারা কিনতে এসেছেন। তবে চারার দাম অনেক বেশি বলে জানান তিনি।

চারা বিক্রেতা হযরত আলী বলেন, ডিজেলের দাম ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চারা উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি নিচু এলাকার অনেক বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চারার ক্ষতি হয়েছে। এসব কারণে চারার দাম কিছুটা বেড়েছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৪ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে ১১ হাজার ৮৮০ পণ চারার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চারা সংকট এড়াতে এবং নির্ধারিত মূল্যে মানসম্মত চারা কেনাবেচা নিশ্চিত করতে হাট-বাজারে মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের খরা সহনশীল জাতের চারা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, চারা উৎপাদন ও বিক্রির প্রকৃত খরচ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক দাম নির্ধারণ এবং বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হলে আমন মৌসুমে তাদের বাড়তি খরচের চাপ কিছুটা কমবে।