নিজস্ব প্রতিবেদক :
ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র
নেতাকর্মীদের জন্য রাজপথ নিরাপদ না করতে পারলে ক্ষমতার প্রসাদও নিরাপদ হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, ‘সরকারে যারা আছেন, তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করুন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করুন। তবে বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দলকে তা মোকাবিলায় রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে।’
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্যে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রে ষড়যন্ত্র থাকবে, অতীতেও ছিল। ষড়যন্ত্রের ইতিহাস ছয় হাজার বছর আগে থেকে পাওয়া যায়। যেখানে রাজা আছে, রাজত্ব আছে, গণতন্ত্র আছে, রাষ্ট্র আছে, সরকার আছে; সেখানে ষড়যন্ত্র হবে না? ষড়যন্ত্র হবে। ষড়যন্ত্র চলছে। হয়তো এই সময় হচ্ছে না, ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে।’
সরকারের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সরকারে আছেন, তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করুন। প্রধানমন্ত্রীকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করুন। আখের গোছানোর কথা চিন্তা না করে দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিতে হবে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘আর আমরা যারা রাস্তায় ছিলাম, তারা যদি রাজপথ নিরাপদ না করতে পারি, তাহলে কিন্তু ক্ষমতার প্রাসাদ নিরাপদ হবে না।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘২০০১ সালের সরকারের মন্ত্রীরা কিন্তু জেলে গেছে। তার চেয়ে বেশি গেছে কোথায়? খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে। একটি দলে এমপি বা মন্ত্রী হওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা হওয়া কঠিন।’
ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক ভূমিকার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি সালাম তালুকদারকে শুধু মন্ত্রী হিসেবে দেখি না, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখি। তিনি আমার নিজের বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘মন্ত্রী কত হাজার হয়েছে এই দেশে? কয়টা নাম বলতে পারবেন? পারবেন না। কয়টা প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে পারবেন? পারবেন না। কয়টা রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবেন? পারবেন না। ভুলে গেছে।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘এখন রাষ্ট্রপতির নাম মনে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া। প্রধানমন্ত্রীর নাম মনে আছে বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।’
সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করলেই তার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হয় না। দলের পক্ষ থেকে তার মতো নেতাদের অবদানকে স্মরণ ও লালন করা প্রয়োজন।’
সালাম তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বিএনপির ব্যানারে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘সালাম মহাসচিব ছিল, এত কীর্তি। অথচ ২৭তম আজকে মৃত্যুবার্ষিকীটাও দলের ব্যানারে হয় নাই।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘দল কেন তার ডায়েরিতে সালাম তালুকদার, মোস্তাফিজুর রহমানদের মতো মানুষের নাম থাকবে না? তরিকুল ইসলামের মতো মানুষ কেন স্মরণ করবে না? এটা কি পয়সা লাগে? পয়সা লাগে না।’
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সালাম তালুকদারের স্ত্রীকে স্মরণ করে গয়েশ্বর বলেন, কোনো রাজনীতি সফল হয় না, যদি তার পেছনে একজন সহযোগী না থাকেন। তার মতে, সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক জীবনে তাঁর স্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন।
সালাম তালুকদারের পরিবারের উত্তরসূরিদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, মাটির নিচে থাকা বীজ একসময় অঙ্কুরিত হয়ে গাছে পরিণত হয়। তেমনি প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহস ও উদ্যম ধরে রাখতে হবে।
তিনি সালাম তালুকদারের সন্তানের প্রতি সাহসী হয়ে বাবার শূন্যস্থান পূরণের আহ্বান জানান।
গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তোমার ইচ্ছা আছে, তোমার উদ্যম আছে। তুমিও তোমার বাবার মতো সাহসী হও। বিজয় তোমার সুনিশ্চিত এবং রাজনীতিতে তুমি তোমার বাবার শূন্যস্থান পূরণ করবে হয়তো একদিন।