মোঃ আব্দুল রহমানঃ

বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এ অভিযানে অবৈধ পার্কিং ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি মোট ২১টি মামলা করা হয়েছে। ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হোটেল পরিচালনার অভিযোগে এক কর্মচারীকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিএমপিতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযানে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইজারা বাতিল করা চারটি ব্লকের অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়। একইসঙ্গে বাদামতলী থেকে ওয়াচঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে গড়ে ওঠা অবৈধ পার্কিং, স্থাপনা, রাস্তার ওপর বসানো ফলের দোকানসহ সড়ক দখল করে থাকা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে, মঙ্গলবারও একই এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়েছিল। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং করার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় বাস, লরি, ট্রাকসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা জরিমানা হতে পারে। তবে মামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট জরিমানার পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়।

অভিযানে লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীর, কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) একেএম মনজুরুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ডিজিটালে সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের যৌথ সভায় বাবুবাজার ব্রিজের নিচে সব ধরনের পার্কিং ও ইজারা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ও আজ অভিযান চালানো হয়েছে। বাস, লরি, ট্রাকসহ অবৈধ যানবাহন ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ২১টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়। অভিযানে ফুটপাত দখল করে অবৈধ হোটেল পরিচালনার অভিযোগে এক কর্মচারীকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থার জন্য ডিএমপিতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত অবৈধ পার্কিং ও সড়ক অবরোধের কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। এসব যানবাহনের এখানে থাকার কথা নয়। কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারী যানবাহন চলাচলের নির্ধারিত সময় রয়েছে। রাত ১০টার পর এসব যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে এবং সকাল ৮টার মধ্যে বের হয়ে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো যানবাহন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাস্তার ওপর দোকান বসানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তার ওপর কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাককে ভ্রাম্যমাণ দোকান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাক রাস্তার ওপর রেখে পেছনের অংশ খুলে সেখানে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় রাস্তা দখল হয়ে থাকে এবং যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ব্যবসায়ীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। ট্রাক রাখার জন্য নির্ধারিত জায়গা রয়েছে। সেখানে গাড়ি পার্ক করে পণ্য সরবরাহ বা বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করলে পুলিশের আপত্তি নেই। কিন্তু রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে ব্যবসা করা যাবে না। এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মো. মফিজুল ইসলাম আরও বলেন, প্রধান সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে দেওয়ার পর অনেক সময় চালকরা পুরান ঢাকার সরু অলিগলিতে ট্রাক রেখে দেন। এতে সেখানেও যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো এমনিতেই সরু। এর মধ্যে একটি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখলে মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডের জন্য জায়গা খোঁজার সময় রাস্তার ওপারে বেশ কিছু জায়গা পাওয়া গেছে। এসব জায়গা যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে যানবাহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সুবিধা হবে।

বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রিজে ওঠা ও নামার জন্য থাকা দুটি সিঁড়ির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সিঁড়ি ব্যবহার করে যাত্রীরা ব্রিজের ওপর ওঠানামা করেন এবং বাসে ওঠা-নামাও করেন। ফলে সেখানে যানজট তৈরি হয়। এটি ব্রিজ নির্মাণের সময়কার কোনো কারিগরি বা পরিকল্পনাগত বিষয় হতে পারে। তবে সিঁড়ি দুটি বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আগে সিঁড়ি দুটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ওই সিঁড়ি দিয়ে নামলে মানুষ সহজেই ব্রিজের পাশের হাসপাতালে যেতে পারেন। এটিও একটি বাস্তবতা। তাই সিঁড়ি বন্ধের আগে বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ দখল, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সিটি করপোরেশনকে ভবিষ্যতে এসব জায়গা ইজারা না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আইন মানতে হবে এবং আইন মানার প্রবণতা গড়ে তুলতে হবে। বছরের পর বছর কিছু অসচেতন ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আমরা চাই এ অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটুক এবং পুরান ঢাকাকে একটি সুন্দর ও যানজটমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের ডিসি মফিজুল ইসলাম জানান, বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং, স্থাপনা এবং যানজট সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।