কক্সবাজার উখিয়া প্রতিনিধি:সরোয়ার আলম,
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৯ নম্বর খুনিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক অসহায় ও হতদরিদ্র রোহিঙ্গার পাওনা টাকা আদায়ে মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ডাক্তার নছরুল্লাহ রায়হান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক অসহায় রোহিঙ্গা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে টাকা পাওনা ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্যের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন তিনি। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওনা টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।
বিচারে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৮ অক্টোবর ২০২৬ পাওনা টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও পাওনাদার ব্যক্তি একদিন আগেই এসে উপস্থিত হন। পরে গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় বিচার অনুযায়ী পাওনা টাকা সংগ্রহ করে অসহায় ওই ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নিজের প্রাপ্য টাকা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় তিনি জানান, টাকা উদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অবশেষে ন্যায্য পাওনা হাতে পেয়ে তার কষ্ট ও হতাশার অবসান ঘটে।
টাকা হাতে পাওয়ার পর তার চোখের পানি যেন বলে দিচ্ছিল—ন্যায়বিচার শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়, কখনো কখনো তা একজন অসহায় মানুষের জীবনে স্বস্তি ও প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
স্থানীয়দের মতে, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিকতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডাক্তার নছরুল্লাহ রায়হান অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম মাস্টার শব্বির আহমেদের বড় সন্তান। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।