টাঙ্গাইলপ্রতিনিধি:
বিএফএফ-সমকাল জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতার টাঙ্গাইল জেলা পর্যায়ের আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয়েছে টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আর শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন রানার্সআপ দলের উম্মে হাবিবা।
বুধবার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এ বি এম শহিদুল ইসলাম।
প্রতিযোগিতায় টাঙ্গাইলের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪ জন বিতার্কিক অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল, বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জেলা কালেক্টরেট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়।
বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠে পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। চূড়ান্ত পর্বে দুই দলের বিতার্কিকদের পাল্টাপাল্টি যুক্তি-তর্কে প্রতিযোগিতা জমে ওঠে। বিচারকদের বিশ্লেষণে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অনীক রহমান বুলবুল, সরকারি এম এম আলী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছোলায়মান হোসেন সায়েম এবং করটিয়া সাদত কলেজের ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি রাসেল আদনান।
বিকেলে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে ক্রেস্ট বিতরণ করেন টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল হক, টাঙ্গাইলের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকরুল মওলা এবং সমকালের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহিম।
বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এ বি এম শহিদুল ইসলাম সমকালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলজীবন থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। স্কুলগুলোতে বিজ্ঞান বিষয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভীতি ও অনাগ্রহের কারণ খুঁজে বের করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ ভয় অনেকটাই কমে আসবে।