1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

পাবনার রূপপুরে যুক্ত হলো উন্নত ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ সিস্টেম, রাশিয়ার বাইরে এই প্রথম

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ৪০ বার পঠিত
৫০

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি অত্যাধুনিক ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ (ওআইএসএস) সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থাটি রাশিয়া এবারই প্রথম নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অন্য কোনো দেশে বাস্তবায়ন করল, যা বৈশ্বিক পারমাণবিক প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এর কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এই ইউনিটের ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (আই অ্যান্ড সি) সিস্টেমে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) অত্যন্ত সফলভাবে এই ওআইএসএস বা ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ ব্যবস্থাটি যুক্ত করেছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান গণমাধ্যমকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই আধুনিক ডিজিটাল সহায়তা ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ মূলত বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যেন সর্বোচ্চ নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তার জন্য বিশ্বমানের বিশ্বস্ত প্রযুক্তি গ্রহণের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারকেই পুনরুল্লেখ করে।

এদিকে রোসাটমের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো একটি বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই ওআইএসএস ব্যবস্থাটি মূলত প্ল্যান্ট অপারেটরদের জন্য একটি ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা বুদ্ধিমান সহকারী হিসেবে কাজ করবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রতিনিয়ত সচল থাকা হাজার হাজার অপারেশনাল প্যারামিটার বা কার্যক্রমের রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) পর্যবেক্ষণ এবং নিখুঁত বিশ্লেষণ করতে এই সিস্টেম সক্ষম। এর ফলে তথ্যের ভিজ্যুয়ালাইজেশন যেমন অনেক বেশি উন্নত ও সহজ হবে, তেমনি যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপারেটরদের সহায়তা করবে। যা পরোক্ষভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনগত দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি প্রসঙ্গে আরএএসইউ-এর সিইও আন্দ্রেই বুটকো নিজের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেমটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদেরকে রিয়েল টাইমে পাওয়ার ইউনিটের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে প্রত্যক্ষ সহায়তা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাকে আরও বেশি সহজতর করে এবং অপারেটরের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার মাধ্যমে এই সিস্টেমটি পরিচালনগত দক্ষতা ও নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এর সফল বাস্তবায়ন বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পগুলোতে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে রোসাটমের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যতের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগটির অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী এবং ঐতিহাসিক প্রকল্প। এখানে ব্যবহৃত আধুনিক রিয়্যাক্টর প্রযুক্তির পাশাপাশি ওআইএসএস-এর মতো বিশ্বমানের উন্নত ডিজিটাল সমাধানের সংযোজন একটি শক্তিশালী পরিচালন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এটি প্ল্যান্ট কর্মীদের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপারেটরদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সহায়তাকারী সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।

নিরাপত্তার খাতিরে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ডিজিটাল সিস্টেমটি শুধুমাত্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদিত এবং নির্দিষ্ট কর্মীদের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্যই সম্পূর্ণ সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই ওআইএসএস প্রযুক্তিটি সর্বপ্রথম রাশিয়ার নিজস্ব নোভোভোরোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর দেশটির অন্যতম আধুনিক ও উন্নত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুর্স্ক এনপিপি-২-এ এটি ইতোমধ্যে সফলভাবে চালু করা হয়েছে। আর রাশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহারের গৌরব অর্জন করল।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার সর্বাধুনিক নকশাকৃত দুটি ‘ভিভিইআর-১২০০’ (VVER-1200) রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যেগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। এই তৃতীয় প্রজন্মের প্লাস (Generation 3+) রিয়্যাক্টর প্রযুক্তিটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সমস্ত আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করে। এই প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যে রাশিয়া ও বেলারুশে অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়াও রোসাটম বর্তমানে মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক, চীন এবং কাজাখস্তানেও অনুরূপ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..