1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরোলেও পাকা হয়নি নাকাইয়ের ডুমুরগাছা রাস্তাটি, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত
১২

 

গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ।

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী -গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাট নাকাই-মনোহরপুর সংযোগ রাস্তাটির বেহাল দশা: রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্বাধীনতার পরও পাকাকরণ হয়নি এক কিলোমিটার রাস্তা, চরম ভোগান্তিতে হাজারো জনসাধারণের।
বিবরনে প্রকাশ থাকে যে, পলাশবাড়ী উপজেলা -এর সীমান্তবর্তী-মনোহরপুর এর ১নং কুমারগাড়ী গ্রামের জলিল বাসের থোপ রাস্তা থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়ন-এর ডুমুরগাছা ঠাকুরপাড়া সংলগ্ন প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তাটি যেন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত রাস্তাটি পাকাকরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি সামান্য মাটি ভরাটের কাজও হয়নি নিয়মিতভাবে।
এলাকাবাসী জানান, প্রয়াত সামছুল হোদা চেয়ারম্যানের আমলে নামমাত্র কিছু কাজ হলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এরপর বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী জনসভায় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও মনোয়ার হোসেন চৌধুরী রাস্তাটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের মতে, এই রাস্তাটি শুধু একটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়; এটি কয়েকটি ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের প্রাণসঞ্চালক পথ। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন নাকাই হাট কলেজ, নাকাই ইউনিয়ন পরিষদ,নাকাই ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নাকাই হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র/ছাত্রী ও জনসাধারণ। শুধু তাই না নাকাই হাট একটি বড় গরু ছাগলের হাট। হাটবারে হাজার হাজার গরু ছাগলের ভিড় জমে , এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলার একমাত্র রাস্তা। একটি হাসপাতাল থাকা সত্বেও যেখানে রোগীদের দ্রুত পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে বর্ষা মৌসুমে।
অন্যদিকে একই রাস্তা ব্যবহার করে হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস, ঘোড়াবান্ধা চৌরাস্তা বাজার, কুমারগাড়ী ছাতিয়ানতলা আজম সুপার মার্কেট এবং ফকির হাট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ-গামী ছাত্র/ছাত্রীসহ হাজারো মানুষ চলাচল করেন। এই রাস্তাটি সাদুল্লাপুর ও গাইবান্ধা সদরের তুলশীঘাট বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের। অনেক সময় জরুরি রোগীকেও সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না, কারণ অ্যাম্বুলেন্স এই রাস্তায় চলাচল করতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে আমরা এখনও কাদামাটির রাস্তা নিয়ে বেঁচে আছি। ভোটের সময় শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু কাজের বেলায় কেউ এগিয়ে আসেনি।”
এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগে অবহেলিত এই জনপদের মানুষের বহুদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হবে বলে বিশ্বাস ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..