শিরোনাম :
কুমিল্লায় মাদরাসায় যাবার পথে শিক্ষক বাবার মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ছেলের মৃত্যু তেহরান ‘খারাপ আচরণ’ করলে পুনরায় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির নীতি: প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ২ লাখ টাকা জরিমানা শাহ আমানত বিমানবন্দরে মিলল ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট, আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাচোলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত লক্ষ্মীপুর ৮ বছর পর লক্ষ্মীপুরে ছাত্রদলের কমিটি গঠন: আহ্বায়ক সৌরভ, সদস্য সচিব অভি সিলেটে দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, হতাহতরা সবাই শ্রমিক দেশের ১৩ দুপুরের মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

কৃষকদের লুটছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

কৃষকদের লুটছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

আইয়ুব আলী, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

চলতি আমন মৌসুমের শুরুতেই বগুড়ার শেরপুরে সার সংকটের গুজব রটিয়ে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করেছে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সেই সঙ্গে সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই চক্রটি। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন এই উপজেলার অন্তত চল্লিশ হাজার কৃষক পরিবার। এছাড়া কৃত্রিম সার সংকটের কারণে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিগত দুই-তিনদিন ধরে স্থানীয় বাজারে সার সংকটের অজুহাতে চাষিদের লুটছে ওই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অথচ উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তাদের সেদিকে কোনো নজর নেই বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সার কিনতে গেলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন সার নেই। তবে দাম বেশি দিতে চাইলেই কেবল মিলছে সার। ডিলারের দোকানগুলোতে সারের মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখা হলেও সেই অনুযায়ী সার বিক্রি করা হচ্ছে না। প্রতিবস্তা ইউরিয়া সরকার নির্ধারিত দাম ৮০০টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০টাকা, ১১০০টাকার টিএসপি ১২০০ থেকে ১২৫০টাকা, ৭৫০টাকার এমওপি ৯০০টাকা ও ৮০০টাকার ড্যাপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০টাকায়।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২২হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতিমধ্যে ২০হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আর দু-একদিনের মধ্যে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় এনেই চাহিদার বিপরীতে সরকারিভাবে সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক পর্যায়ক্রমে বিসিআইসি ১২জন এবং বিএডিসির ২১জন ডিলার চাহিদা অনুযায়ী সার উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এখানে সারের কোনো সংকট নেই। অথচ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে পরিকল্পিতভাবে সার সংকটের গুজব ছড়ানো হয়েছে। ফলে সার কেনার জন্য কৃষক মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারা হন্যে হয়ে দোকানে দোকানে ঘুরছেন। সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জানান, কতিপয় ডিলার-ব্যবসায়ী ও খুচরা সার বিক্রেতাদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মূলত তারাই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইউরিয়া, টিএসসি, ডিএপিসহ সব ধরণের সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতি বস্তা সারে ইচ্ছে মাফিক দাম নিয়ে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে। এভাবে প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটটি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

উপজেলার সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন স্বপন ও খোরশেদ আলম বলেন, জমিতে সার দেওয়ার এখন উপযুক্ত সময়। তাই সার কেনার জন্য বুধবার (১৮আগস্ট) একাধিক দোকানে যাই। প্রথমে সব ব্যবসায়ী তাদের কাছে কোনো সার নেই বলে জানিয়ে দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিবস্তায় ১০০-২০০টাকা বেশি দিয়ে সার সংগ্রহ করি। তবে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

গোলাম রব্বানী নামের এক কৃষক বলেন, দশ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই সার নিয়ে খুবই বিপদের মধ্যে আছি। জমির আগাছা ও ঘাস মারার কীটনাশক চারা রোপণের আট থেকে দশদিনের মধ্যে ইউরিয়া সারের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। কিন্তু পনের দিন পার হয়ে গেলেও ইউরিয়া সার সংগ্রহ করতে পারিনি। তাই জমিতে ওষুধ ও সার দিতে পারছি না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা বলেন, বগুড়া বাপার গোডাউন থেকে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই সারের এই সংকট তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের কোনো হাত নেই। এছাড়া সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কোনো বাড়তি টাকায় সার বিক্রি করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মাসউদ আলম বলেন, চলতি আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৯০৭ মেট্রিকটন। মঙ্গলবার পর্যন্ত কেবল ২৬০মেট্রিকটন উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি সার এখনও উত্তোলনই হয়নি। তাই সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে দাবি করে এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আপনারা (কৃষকরা) গুজবে কান দেবেন না। কারও কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনবেন না। লকডাউন ও পরিবহন সংকটের কারণে একটু সরবরাহে বিলম্ব হওয়ার কারণে সংকট হয়েছে। তবে এই সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার জানা মতে সারের কোনো সংকট নেই। এরপরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করা আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com