শিক্ষা ডেস্ক:
দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সব কয়টি আবাসিক হল। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা হলে উঠায় ক্যাম্পাসে যেন ফিরেছে প্রাণ। শিক্ষার্থীদের পাদচারণায় আবারও মুখরিত হতে শুরু করেছে চুয়েট ক্যাম্পাস।
বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। পরে বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন তিনি।
দেখা যায়, এদিন সকাল হতে হলের গেইটে আসতে থাকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে নেয়া হয় নানান রকম উদ্যোগ। তার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নেয় হল কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে করোনা সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিতরণ করা হয় মাস্ক ও স্যানিটাইজার।
তারেক হুদা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফফাত হক নিশান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৯ মাস পর আমরা সমাপনী ব্যাচের সকল শিক্ষার্থী হলে উঠতে পেরে সবাই খুব উচ্ছ্বাসিত। তবে ক্যাম্পাসের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যাতে খুব দ্রুত হলে উঠতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ভালোবাসার চুয়েট ক্যাম্পাস তার প্রাণ পুরোপুরি ফিরে পাক আবারো।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে অবশেষে হলে উঠতে পেরে যেন বেশ উৎফুল্ল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চুয়েটের সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনিকা ফারজানা সাম্য বলেন, হলে উঠতে খুব সুন্দর প্রস্তুতি ছিল আমাদেরকে বরণ করার জন্য। স্বাস্থ্যবিধি বেশ ভাল মতো মানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাথে ছিলো কিছু শুভেচ্ছা উপহার। পুরো হল একদম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সাথে সংস্কারও করা হয়েছে। স্যার-ম্যামরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে সব আয়োজন করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর এভাবে ফিরতে পেরে অত্যন্ত ভাল লেগেছে।
চুয়েটের শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু সাঈম বলেন, হলে প্রবেশের এর সাথে সাথে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে হল কর্তৃপক্ষ। তারপর ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে আমাদের বরণ করে নেন শেখ রাসেল হলের প্রভোস্টগণ। ভিসি স্যার সশরীরে সাক্ষাৎ করে কিছু দিক-নির্দেশনা আর উপদেশ দেন। সেই সাথে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া এবং হলের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের সহকারী প্রভোস্ট এটিএম শাহজাহান বলেন, বঙ্গবন্ধু হলে শিক্ষার্থীদের আমরা স্বাগত জানিয়েছি। করোনা পরবর্তী সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে হলে একটি মনোরম পরিবেশ বসবাস করার জন্য বঙ্গবন্ধু হলটিকে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা নবরূপে সাজিয়েছি। হলের প্রতিটি কর্নার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবার কথা বিবেচনা করে হল ডাইনিং এ স্বল্প টাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার সরবরাহ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে সকল আবাসিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
Leave a Reply