বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আজ বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদ ও বিভাগে স্বাস্থবিধি মেনে সশরীর ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এছাড়া আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে ও ভ্যাকসিন সনদ প্রদান সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগের পরীক্ষা ইতিমধ্যে অনলাইনে শুরু হয়েছে, সেসব পরীক্ষা সশরীর উপস্থিতির মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে যাওয়ার পর ইতিমধ্যে শুরু হওয়া পরীক্ষাগুলো দুর্যোগকালীন পরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২১ (এক্সামিনেশন অর্ডিন্যান্স ডিউরিং ডিজাস্টার-২০২১) এর কাঠামোতেই অনলাইন মাধ্যমের পরিবর্তে সশরীর উপস্থিতির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তবে ১০ নম্বরের অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইনে সফট কপি বা অফলাইনে হার্ড কপিতে জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া ১০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় কোনো শ্রেণিকক্ষ বা গ্যালারি বা একাধিক শ্রেণিকক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যেসব বিভাগ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য পরীক্ষকদের অনুরোধ করার কথা জানাবে, সেসব পরীক্ষা দুর্যোগকালীন পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রশ্নকর্তাদের প্রশ্ন পাঠানোর অনুরোধ করার দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা শুরু করতে হবে। এছাড়া ৩০ নভেম্বরের পর যেসব পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হবে, সেসব পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আগের নিয়মেই অনুষ্ঠিত হবে।
স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী শহীদুল মিয়া বলেন, ‘অবশেষে বহুল প্রতিক্ষার পর ক্লাস শুরু হচ্ছে। আজ থেকে সশরীরে ক্লাস করতে পারব ভেবেই আনন্দ লাগছে। চিরচেনা আবাসিক হলে উঠে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছি। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হওয়ায় আর অল্প কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারব আর তাই শেষ বর্ষটা অনলাইনে করতে হলো না।’
এর আগে ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হল খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সকালের হালকা নাস্তা দেওয়ার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাবি একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল বন্ধ করে। পরে গত শনিবার (২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় ১১ অক্টোবর হল এবং ২১ অক্টোবর সশরীরে ক্লাস গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Leave a Reply