নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারী ও শিশুদের প্রতি সব ধরণের নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ ও বন্ধের উদ্দেশ্যে সচেতনতা তৈরী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (সিক্সটিন ডে অ্যাক্টিভিজম) পালন করছে। এর অংশ হিসাবে অদ্য ১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জাল হোসেন মানিক মিয়া হল এ ‘ফেয়ার ওয়ার ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি “বাংলাদেশে যৌন হয়রানী: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রতিরোধে করণীয়” শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারী সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিগণ ও আইনজীবীগণ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আইনজীবীগন এবং কর্মকর্তাবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট সালমা আলী। তিনি বলেন- বর্তমানে দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিটি ক্ষেত্রেই উদ্বেগজনকহারে বেড়ে চলেছে। এখনই সময় নারীদেরকে রুখে দাড়াতে হবে। তিনি তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশে নারীর প্রতি যৌন হয়রানীর বর্তমান ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন- বাংলাদেশের প্রায় ৮৪% নারী ক্রমাগত রাস্তা, যানবাহনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে এমনকি বাড়িতেও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশ করে যে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ১১৮২টি (ধর্ষণ ৯৫৫টি, গণধর্ষণ ২২০টি, ধর্ষণের চেষ্টা ২৫৯টি)।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীগণ সবাই তাদের জীবন থেকে যৌন হয়রানীর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক জাইমা ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন- আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিদিনই দেখছি নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। দেশের প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রেই যৌন হয়রানী প্রতিরোধ কমিটি নিশ্চিত ও কার্যকর করা গেলে নারীদের প্রতি এই ধরণের সহিংসতার ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
ফেয়ার ওয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি বাবলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের থেমে থাকলে চলবেনা। আমাদের সবাইকেই সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের বাস্তবিক প্রয়োগ ও মনিটারং করা খুবই জরুরী। জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ট্রেজারার ডক্টর রাশেদা আক্তার উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথী হিসাবে তার বক্তব্যে বাংলাদেশে যৌন হয়রানীর প্রসঙ্গে নারীদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন- নারীরা যৌন হয়রানীর শিকার হলেও চাকুরি হারানোর ভয়ে, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে তারা অভিযোগ করতে পারেনা। এক্ষেত্রে নারীর প্রতি সমাজের সকলের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিন বলেন- বাংলাদেশে যৌন হয়রানীর বর্তমান পরিস্থিতিতে সারাদেশে নারীরা অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সোচ্চার হওয়ার মতো কাউকে তারা পায়না। তাছাড়াও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করার ফলে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে চলেছে। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি সমসাময়িক যৌন হয়রানীর ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এবং বর্তমানে সংঘটিত সকল যৌন হয়রানী ও সহিংসতার অপরাধের জন্য দায়ী অপরাধীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার দাবী করছে।
Leave a Reply