শিরোনাম :
সিলেটে ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেফতার বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী প্রথমবারের মতো ড্যান্স পারফর্ম করে ভীষণ উচ্ছ্বসিত রিবা রূপগঞ্জে ‘আন্ডা রফিক’-এর সন্ত্রাস, জমি দখল ও অর্থপাচার দীর্ঘদিনের পলাতকতার শেষে নতুন উত্তেজনা মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর উদ্বোধন  মগরাহাট পশ্চিমে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সামিম আহমেদের জয় শুধু মাত্র সময়ের অপেক্ষা লালমনিরহাটে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার সাভারে এম.এ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত কুমিল্লার কৃষকের বরাদ্দ খেয়ে খেলতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা : কৃষিমন্ত্রী আজ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

রূপগঞ্জে ‘আন্ডা রফিক’-এর সন্ত্রাস, জমি দখল ও অর্থপাচার দীর্ঘদিনের পলাতকতার শেষে নতুন উত্তেজনা

রূপগঞ্জে ‘আন্ডা রফিক’-এর সন্ত্রাস, জমি দখল ও অর্থপাচার দীর্ঘদিনের পলাতকতার শেষে নতুন উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রূপগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম রফিকুল ইসলাম রফিক, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘আন্ডা রফিক’ নামে পরিচিত—তাকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ, সহিংসতা, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং প্রভাব বিস্তারের ঘটনাপ্রবাহ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবি রাখে। সময়ের পরিক্রমায় জমে ওঠা নানা অভিযোগ, মামলা, সহিংসতা ও সাম্প্রতিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করলে একটি সুসংগঠিত শক্তিশালী নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে আসে, যা দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

ঘটনার শেকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবলীগ কর্মী সুমন মিয়া নিহত হন। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে আন্ডা রফিকসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, রফিকের নির্দেশেই সুমন মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী শক্তির সংঘবদ্ধ উপস্থিতির একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর সময়ের ব্যবধানে অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্ডা রফিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব বিস্তার ছিল নিয়মিত ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এবং তার সহযোগীরা নিরীহ মানুষের পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করতেন, ভুয়া দলিল তৈরি করে একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন এবং প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করতেন। এসব ঘটনায় বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা আইনি প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগগুলোর একটি ভয়াবহ প্রতিফলন দেখা যায় ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির ঘটনায়। সেদিন রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামে সংঘটিত হয় এক ভয়ংকর সশস্ত্র হামলা। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল ১১টার দিকে আন্ডা রফিকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী হাজী মোতালেব ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ছিল দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক অস্ত্র। হামলার সময় নারী ও শিশুরা আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িটি দখলের চেষ্টা চালায় এবং এতে ব্যর্থ হয়ে তারা গুলি চালায়। এতে আলাউদ্দিন প্রধান, আল-আমিন, তাজিল মিয়া, জাকির হোসেন, মোক্তার হোসেনসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

একই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনাও ঘটে, যেখানে আরও কয়েকজন আহত হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি দখলে বাধা দেওয়া এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ তাজিল মিয়া বলেন, তারা জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃদ্ধা নাসিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সমস্ত মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে, ফলে তারা নিজেদের বাড়িতেই থাকতে পারছেন না।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কিছু ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই গুলি চালানো হয়। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন, তবে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই নেটওয়ার্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, আন্ডা রফিকের ভাই মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তিনি রংধনু গ্রুপের পরিচালক এবং রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তার গ্রেপ্তার পুরো চক্রটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট সামনে আসে আরও বড় একটি আর্থিক কেলেঙ্কারি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আন্ডা রফিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ৮৭৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। তদন্তে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছেলেরা প্রথমে প্রায় ৭.৫৭ একর জমি বিক্রি করেন এবং পরবর্তীতে একই জমির একটি বড় অংশ আবার অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেন।

এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয় বলে তদন্তে জানা যায়। এসব ঋণের বিপরীতে ভুয়া মূল্যায়ন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, এই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিংয়ের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আন্ডা রফিককে হঠাৎ করে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনেকেই মনে করেন, এতগুলো মামলার আসামি হয়েও তার প্রকাশ্যে চলাফেরা করা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক।

তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তিনি আবারও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, তিনি যদি দেশত্যাগে সফল হন, তাহলে দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগ ও মামলার বিচার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট। তারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে তারা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন, কিন্তু মামলার ধীরগতি এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তারা বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তারা চিরতরে বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু রফিক মামলার আসামি, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে না; তাকে হয় জামিন নিতে হবে, নয়তো গ্রেপ্তার হতে হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি বড় অংশ মনে করছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া না থাকলে এতদিন ধরে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারতেন না। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

বর্তমানে রূপগঞ্জের নাওড়া এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কার্যকর বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি ব্যক্তিকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে জমে ওঠা অভিযোগ, সহিংসতা এবং আর্থিক অনিয়ম এখন একটি জটিল সংকটে রূপ নিয়েছে। হত্যা মামলা থেকে শুরু করে সশস্ত্র হামলা, জমি দখল, প্রতারণা এবং শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ, এই একটি মামলার বিচার শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে না, বরং পুরো এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে উঠবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com