নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ওই বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
দুই মাসের অধিক সময় ধরে কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা না নেয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অর্থনীতি বিভাগে দীর্ঘ সেশনজট ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিভাগীয় প্রধানের পদত্যাগসহ কয়েক দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ওই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে বিভাগীয় প্রধান বলছে যারা অনিয়ম দুর্নীতি করেছে এবং একাডেমিক মিটিং এ আসেননি তারাই আজ আন্দোলন করছে।
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ওই বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। এর আগে ২৮ নভেম্বর একই দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ সেশনজটমুক্ত ও আইকিউ এসি রেটিং এ প্রথম স্থান প্রাপ্ত ছিল। জনি পারভীন বিভাগীয় প্রধান হওয়ার পর তার লাগাতার অনুপস্থিতি, একাডেমিক মিটিং না ডাকা, করোনাকালে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা না নেয়ায় দীর্ঘ সেশনজট সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি বিভাগের একাডেমিক সভায় অন্য শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন এবং কারও পরামর্শ না নিয়ে নিজের মত সবারর উপর চাপিয়ে দেন।
তারা আরো জানায়, তিনি (বিভাগীয় প্রধান) যখন বিভাগে অনুপস্থিত থাকেন তখন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কাউকে দায়িত্ব দেন না। এ কারণে দীর্ঘ সেশনজটে ভুগতে হচ্ছে। এতে করে চাকরির বয়স শেষ হচ্ছে। এমতবস্থায় বিভাগীয় প্রধানের অপসারণ চান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
কয়েকদিন আগে বিভাগের ৮ শিক্ষকের মধ্যে ৬ শিক্ষক বিভাগীয় প্রধানের পদত্যাগসহ কয়েক দফা দাবিতে বিশ্বদ্যিালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগপত্র দেন।
শিক্ষকদের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সব সময় অমানবিক আচরণ করেন যা বিভাগের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট করে। বিভাগের শিক্ষক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, শাফিউল ইসলাম, কাজী নেওয়াজ মোস্তফার আপগ্রেডেশনের আবেদন পত্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে আটকে রেখেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষকদের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ পত্রে আরো বলা হয় জনি পারভীন অর্থনীতি বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভাগের অন্যান্যদের হয়রানি করছেন।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনি পারভীন বলেন, যারা অনিয়ম করেছে, দুর্নীতি করেছে, শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট না দিয়ে আটকিয়ে রেখেছে, তিনটি এ্যাকাডেমিক মিটিং এ আসেনি, তারাই আজ আন্দোলন করছে। আমি বিষয়টি ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। তাদের এ অন্যায় মেনে নেয়া যায় না। পুরো বিষয়টি আমি প্রেস কানফারেন্স করে জানাবো।
Leave a Reply