নিজস্ব প্রতিবেদক
স্মরণসভায় আলোচকবৃন্দ বলেছেন, ক্ষণজন্মা পুরুষ সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান তাঁর কর্মজীবনে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অপরিসীম ধৈর্য্য ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। জাতীয় জীবনে তাঁর অবদান সকলে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘আমাদের একজন মিজানুর রহমান খান ছিলেন’ শীর্ষক স্মরণ সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।
হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি মো. আবদুল মতিন, দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাইদ খান, নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফারুক ওয়াসিফ, আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রমূখ। প্রয়াত মিজানুর রহমান খানের সহধর্মিনী, জ্যেষ্ঠ পুত্র সাদমান খান, ছোট ভাই সাংবাদিক মশিউর রহমান খানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণ সভায় বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, মিজানুর রহমান খান একজন সাংবাদিক হলেও আইন অঙ্গনে তাঁর অবদান জাতি স্মরণে রাখবে। বিচারক ও বিচারপতি সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়েই মিজান সরব থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর বিচারক ও বিচারপতিবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে প্রচন্ড শোকাহত হয়েছিলেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই কেবল আইন নিয়ে ভাববেন তা নিয়ম নয়। মিজানুর রহমান খান এ কথাটি প্রমাণ করে গিয়েছেন। আইনের ভাষাকে মিজানুর রহমান খান সাধারণ জনগণের ভাষাতে পরিণত করতে নিরলস কাজ করে গিয়েছেন।
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আবু সাইদ খান বলেন, মিজানুর রহমান খান সাংবাদিক হিসাবে এই অঙ্গনে সর্বগ্রহণযোগ্য ও সর্বজন স্বীকৃত ছিলেন। আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি গবেষণার কাজটিও চালিয়েছেন।
ইলিয়াস খান বলেন, মিজানুর রহমান খান জানার জন্য সব সময়ই উদগ্রীব থাকতেন। তাঁর সাংবাদিকতার জীবনে জ্ঞানার্জন ছাড়া অন্য কোন দিকে তাঁর তেমন কোনা আগ্রহই ছিল না।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, আইন সাংবাদিকতায় মিজানুর রহমান খান-এর শুণ্যতা কোন কালেই পূরণীয় নয়। আমাদের দূর্ভাগ্য তাঁর মতো সাংবাদিক আমরা সচরাচর খুজে পাই না।
সৈয়দা রিজয়ানা হাসান বলেন, আইনজ্ঞ হিসাবে মিজানুর রহমান খান বিভিন্ন তথ্যের জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু তাঁর চাহিদামত তথ্য সরবরাহে আমি আইনজীবি হওয়া সত্ত্বেও হিমসিম খেতে হত। তাঁর জ্ঞানের সীমা ও জ্ঞান লাভের আকাঙ্ক্ষা আমাকে সব সময় মোহিত করত।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, মিজানুর রহমান খান নিরাপত্তার আশংকা থাকা সত্ত্বেও মিজানুর রহমান দেশের স্বার্থে অনেক বিষয়েই সাংবাদিকতা করে যাচ্ছিলেন। তিনি আমাদের জন্য একজন সামাজিক বুদ্ধিজীবি ছিলেন, যা বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় উন্নতির জন্য খুবই দরকার ছিল।
Leave a Reply