নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিল ফোসান গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন এই নিয়ে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৯ এপ্রিল, শনিবার মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। এই নিয়ে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করেন মোঃ হেলাল উদ্দিন, বাদী হয়ে একটি মামলা করেন মামলার নাম্বার ৪৪। ভুক্তভোগীর থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ফোসান গ্রুপের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন । তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন ভুক্তভোগীরা । মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হেলাল উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আব্দুল করিম বাবু , মোঃ ফজলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা সাবেক মেয়র মোঃ আব্দুল মতিন প্রধান। আরো উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম,বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার,এন বিএম অ্যান্টিক স্টোন কোম্পাানী লিমিটেড এর ডি জি এম মোঃ রুবেল আলম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন জামাত থেকে এসে রাতারাতি আওয়ামী লীগের যোগ দেন বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার
বাসিন্দা মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জামান।
বিগত জোট সরকারের আমলে জামায়াতের তৎকালীন এমপি আবদুর ছাত্তারের কথিত পি এস ছিলেন জিয়াউদ্দিন জামান
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে দাবি করে নামে-বেনামে অন্তত নয়টি নামসর্বস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেন। এই কথিত ব্যবসায়ী যার ৬ টি কোন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নেই আছে শুধু ওয়েবসাইট, এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অগ্রণী সোনালি রুপালি ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে কয়েক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জামান।
তার এই ব্যাংক লোনের টাকা আত্মসাৎ ওভার ইনভয়েসিং ও কনসোর্টিয়াম লোনের টাকা পাচার করে বহির্ভূত সম্পদ ও বিনিয়োগ অর্জনসহ দুর্নীতির মাধ্যমে বহু মানুষের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ বিষয়ে অনুসন্ধান করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে । জিয়াউদ্দিনকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে। নানা দেশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এমন প্রচার করে ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ব্যাংক লোন নিয়ে একটি কারখানা দেখিয়ে অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে লোকচক্ষুর আড়ালে দুর্নীতি করছে। প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী নামিদামি ও সম্মানিত ব্যক্তিদের তার কোম্পানিতে পরিচালক বানিয়ে লোন নেন জিয়াউদ্দিন।
এরপর বিনিয়োগ করে লাভ বান হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ও টাকা আত্মসাৎ করেন ভুয়া ওয়েবসাইট দেখিয়ে জিয়া নিজেকে দশটি প্রতিষ্ঠানের মালিক দাবি করে গুলশান বনানী এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে এসব অপকর্ম করেছেন । অভিযোগে আরও বলা হয়েছে কথিত ব্যবসায়ী জিয়াউদ্দিনের কোম্পানি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিআইএন সংগ্রহ করে তথ্য নিয়ে জানা যায়, তার ৯ টির অধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের দু’একটি কিছু কার্যক্রম থাকলেও বাকিগুলো নামসর্বস্ব। এগুলোর নাম ব্যবহার করে দুর্নীতি করে যাচ্ছে জিআরই সংগ্রহ করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফোসান গ্রুপ নামে জিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, টাইলস কারখানার নাম করে বিভিন্ন ডিলারের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা ও নিয়েছিল এই ফোসান গ্রুপ। অথচ আলোর মুখ দেখেনি ফোসান গ্রুপ। আবার যেসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে না।
এভাবে নিজের বহুসংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচয় দিয়ে বহু মানুষের স্বপ্ন দেখিয়ে লুটে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের একদল কর্মকর্তা যারা পাইয়ে দেওয়ার কাজে সাহায্য করে আসছে। প্রথম থেকেই বনানী ডিওএইচএস এলাকায় যে আরেকটি নাম সর্বস্ব অফিস থাকলেও কার্যক্রম নেই, অন্যদিকে হাইটেক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে অগ্রণী ব্যাংক গুলশান শাখা হতে ১৯৬ কোটি টাকা কনসোর্টিয়াম লোন মঞ্জুরি নিয়ে ওভার ইনভয়েস এর মাধ্যমে এলসি খুলে টাকা বের করে নেয় জিয়াউদ্দিনের প্রতিষ্ঠান । বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে এলজি করে ওভারিন ভয়েসের মাধ্যমে এই টাকা পাচার করছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধ পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয় জিয়াউদ্দিন, এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম টাকা নিয়েছে জিয়াউদ্দিন জামান।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সন্ন্যাসী বাজার এলাকার সন্তান জিয়াউদ্দিন জামান আগে ছিলেন জামায়াতের স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক। চারদলীয় জোটের সময় মোড়লগঞ্জ শরণখোলা আসনের জামায়াতের এমপি আবদুস সাত্তারের পিএস পরিচয় দিতেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে চলে যান ওমানে সেখান থেকে চীনে গিয়ে ব্যবসার সূত্র খোঁজেন ।অতঃপর দেশে ফিরে বর্তমান সরকার দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন নতুনভাবে উত্থান ঘটে জিয়ার।নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে জিয়ার বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply