নিজস্ব প্রতিবেদক :
শরীরে ছয়টি রাবার বুলেটের চিহ্ন নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন রজ্জব রায়হান। তিনি ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। মূলত পুলিশের আক্রমণে বেশি আহত হন তিনি।
গতকাল বুধবার হাসপাতালে রায়হানের সঙ্গে কালের কণ্ঠের কথা হলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ চাইলে প্রথমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত।
কিন্তু পুলিশ সেটা করেনি। বরং তারা ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়েছে। পুলিশ ব্যবসায়ীদের পক্ষে ছিল। ’
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রায়হান অভিযোগ করেন, ‘প্রথমে পুলিশ এসে আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকতে বলে। আমরা ক্যাম্পাসে ঢোকার জন্য রাজি ছিলাম। কিন্তু মার্কেটের লোকজন ততক্ষণে ক্যাম্পাসের সামনে চলে আসে। অথচ পুলিশ তাদের কিছু না বলে শুধু আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে যেতে চাপ দিচ্ছিল। আমরা তখন ক্যাম্পাসে ঢুকে গেলে কলেজে হামলা হতো। ’
রায়হানের ভাষ্য, ‘আমরা পুলিশকে বলি, তাদের এখান থেকে সরান। আমরা ক্যাম্পাসে ঢুকে যাব। তারা এখানে থাকলে ক্যাম্পাসে হামলা হবে। ক্যাম্পাসের একটা ইটেও আমরা আঘাত লাগতে দেব না। তখন পুলিশ আমাদের ওপর রাবার বুলেট ছোড়া শুরু করে। ’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ঢাকা কলেজের আরেক ছাত্র কানন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি নূর জাহান মার্কেটের সামনে ছিলাম। পরিস্থিতি এত বড় হবে তা বুঝতে পারিনি। ক্যাম্পাসের দিকে তখন গেলে হামলার শিকার হব ভেবে, নূর জাহান মার্কেটের এক কোনায় অবস্থান নিয়েছিলাম। তখন মার্কেটের লোকজন আমার ওপর হামলা করে। ’
একই হাসপাতালে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন নিউ মার্কেটের কাপড়ের দোকানে চাকরি করা মোরসালিন ও ইয়াসিন। তাঁদের মধ্যে ইয়াসিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক বলেন, ইয়াসিন ৯৫ শতাংশ ব্রেনডেড।
এ ছাড়া স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত মোশারফ হোসেনের অবস্থা অপরিবর্তিত আছে।
Leave a Reply