নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুঃসহ যানজট। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে- এমনটাই চিত্র প্রতিনিয়ত। তবে ঈদের ছুটিতে বদলে গেছে সেই চিত্র। চিরচেনা সেই ঢাকা এখন ফাঁকা। নেই কোলাহল, যানজট। যানজটের নাকালে পড়ে গন্তব্যে যেতে যেখানে সময় লাগতো এক থেকে দুই ঘণ্টা, সেখানে এখন পৌঁছাতে সময় লাগছে মাত্র ১০ মিনিটে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক মতিঝিল, সচিবালয়, কাকরাইল, ফার্মগেট, পুরান ঢাকার কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়- সড়কগুলো অনেকটা ফাঁকা। মাঝে মধ্যে কয়েকটি ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন দেখা গেলেও, ছিল না যানজটের দীর্ঘজট। ঈদের ছুটির এই সময়টাতে যারা ঢাকায় আছেন, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন।
সড়কে কথা হয় আব্দুল বাসেত আলী নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ফার্মগেট থেকে বাসে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে গুলিস্তানে এসে পৌঁছে গেছি। কী দারুণ, এভাবে যদি সবসময় যাতায়াত করা যেত।
টিপু সুলতান রোডে কথা হয় ঈদে ঘরমুখো যাত্রী রহিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সদরঘাটে যাচ্ছি। তবে টিপু সুলতান রোড থেকে বের হতেই যেখানে আগে এক থেকে দুই ঘণ্টা লেগে যেত, সেখানে আজ রিকশা নিয়ে সহজেই চলে যাচ্ছি সদরঘাটে। কোন জট নেই।
তবে এদিন শেষ মুহূর্তেও অনেকেই ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। যদিও তা ছিল গত দু’দিনের তুলনায় খুবই কম। কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন, গাবতলি, সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনাল মুখে রাস্তায় তুলনামূলকভাবে কম যানবাহন চলাচল করছে। এসব স্থানে নেই কোন যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রী নিয়ে বাসগুলো টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। এসব এলাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে তেমন ছিল না কোনো যানজট।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ছেড়ে গেছে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গত বুধবার থেকেই মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। এরইমধ্যে এক কোটির বেশি মানুষ ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
এ ছাড়াও ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিন সকালেও অনেকেই ঢাকা ছেড়ে যাবেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এদের অনেকেই বাসের টিকিট কেটে রেখেছেন। তবে রাজধানীতে যেন চুরি-ডাকাতিসহ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সদা তৎপর রয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply