পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
হনুমান মুদ্রার অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শনের নামে প্রতারণার দায়ে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আটোয়ারী থানা পুলিশের বারঘাটি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করেন।
আটককৃতরা হলেন- আটোয়ারী উপজেলার দারখোর গ্রামের করিমউদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২২), এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার মধুপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আবু সাইদ (৩৫)।
শনিবার সকালে হনুমান মুদ্রা ক্রেতা অতুল সরকার বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে দুজনের বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিন বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের দুইজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অলরাম কাজী তাদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দারখোর এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে সাইফুল ইসলাম হনুমান মুদ্রার ব্যবসা করেন। বিভিন্ন সময়ে তার বাড়িতে বিভিন্ন জেলার লোকজন আসেন। সাইফুলের সঙ্গে রুহিয়া থানার আবু সাইদের যোগসাজশ রয়েছে। এরই মাঝে ঠাকুরগাঁও জেলার আবু সাইদের সঙ্গে অতুল সরকারের পরিচয় হয়। অতুলকে অলৌকিক হনুমান মুদ্রা ক্রয়ের প্রস্তাব দেয় সাইদ। এরপর গত ২২ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া এলাকার অতুল সরকার ও আবু সাইদ দুজনে রুহিয়া থেকে হনুমান মুদ্রা কিনতে আটোয়ারি উপজেলার দারখোর গ্রামে প্রতারক সাইফুলের বাড়িতে আসেন।
সাইফুলের বাড়িতে হনুমান মুদ্রার মাধ্যমে বাটিতে মুদ্রা রেখে দুধ শুষে নেয়া, চিনির মাঝে মুদ্রা দিয়ে চিনিকে তরল করা এবং চাল ভর্তি বাটিতে মুদ্রাটি রেখে চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি হয়, এমনিভাবে হনুমান মুদ্রার অলৌকিক ক্ষমতা দেখায় সাইফুল। ওই দিনই অলৌকিক ক্ষমতা দেখানোর পর কথিত নকল মুদ্রাটি অতুল সরকারের কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর অতুল ওই মুদ্রাটি বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে ওই মুদ্রা দিয়ে অলৌকিক ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখেন মুদ্রাটি কোনো ক্ষমতা দেখাচ্ছে না। পরে অতুল প্রতারক সাইদ ও সাইফুলকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে গত শুক্রবার অতুল প্রতারক সাইফুলকে খুঁজতে তার বাড়িতে আসেন। প্রতারক সাইফুল তার সহযোগী সাইদ এবং অতুল সরকারের তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় অতুল গোপনে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে সাইফুল ও সাইদকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে সাইফুলের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
আটোয়ারী থানার ওসি সোহেল রানা জানান, সাইফুল ও তার সহযোগী আবু সাইদকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সাইফুল একজন প্রতারক। সে দীর্ঘদিন ধরে হনুমান মুদ্রা দেখিয়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে সাইফুল ছাড়া আর কেউ জড়িত আছে কি না ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply