শিরোনাম :
টি-টুয়েন্টি এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০৫ পুড়িয়া হেরোইনসহ ৩ যুবক আটক বিআরটিএ-ডিএমটিসিএলসহ ৪ সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার: পেন্টাগন সংসদে শৃঙ্খলা মানার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ সোনারগাঁয়ে দুই হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ বরগুনায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্ক, ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে পিরোজপুরে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের, নিখোঁজ ১
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

সিআইডি-ক্রাইম পেট্রল দেখে শিশু আয়াতকে অপহরণ ও হত্যা

সিআইডি-ক্রাইম পেট্রল দেখে শিশু আয়াতকে অপহরণ ও হত্যা

মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রামে নিখোঁজের ১০ দিন পর শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতের খণ্ডবিখণ্ড লাশ
উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড এলাকা থেকে লাশটি
উদ্ধার করা হয়। পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে ঘর থেকে বেরিয়েছিল পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু আয়াত। পরে
আর ঘরে না ফেরায় হন্যে হয়ে তাকে খোঁজে পরিবারের লোকজন।
তার সন্ধান চেয়ে পোস্টার ও প্রচারপত্রও বিলি করা হয় বিভিন্ন এলাকায়। আয়াত নিখোঁজ হয় ১৪ নভেম্বর। কিন্তু
বেশ কয়েকদিন কোথাও সন্ধান মেলেনি। আয়াত চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি
এলাকার সোহেল রানার মেয়ে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় জিডি করা হয়। তার
দাদা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে আবেদন করেন নাতনির সন্ধান চেয়ে। এরপর
আয়াতের সন্ধানে মাঠে নামে পিবিআই। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে আর
স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে কথা বলে আয়াতের ভাড়াটিয়ার ছেলে আবীর আলীকে (১৯) আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আবীর আয়াতকে খুন করে মরদেহ ছয় টুকরা করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার
কথা জানায়।
পিবিআই জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া থাকায় আয়াতের বাসায় সবার সাথে সম্পর্ক ছিল আবীরের। সে
সুযোগই কাজ লাগিয়ে সে আয়াতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। ১৪ নভেম্বর বিকেল
সোয়া ৩টার দিকে পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় আয়াত। ওই সময় আবীর
তাকে কোলে নেয়। যেটা ওই এলাকায় খেলাধুলা করা অন্য শিশুরাও দেখেছিল। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরায়ও
সেটি দেখা গেছে। এরপর তাদের নিচতলায় বাবার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় আবীর। সেখানেই আয়াতকে
শ্বাসরোধে খুন করে আবীর। তারপর শিশুটিকে ছয় টুকরা করে সাগরে ভাসিয়ে দেয় সে।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) আবীরকে নিয়ে পুলিশ নগরের আকমল আলী সড়কের স্লুইস গেট সংলগ্ন নালায় এবং
পরবর্তীতে আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকার সমুদ্র পাড়ে যায়। তবে ‘সাগরের পানিতে’ ভেসে
যাওয়ায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। আকমল আলী সড়কে তার মায়ের বাসার সামনে একটি ঝোপ
থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি উদ্ধার করে। এছাড়া আয়াতের বাসার পাশে কবরস্থানে আয়াতের পায়ের স্যান্ডেল
উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার জানান, আবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করে যে
বেশকিছু দিন ধরে সে পরিকল্পনা করেছিল আয়াতকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়
করার। ওই জন্য রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিমও সে সংগ্রহে রেখেছিল। যাতে ওই নম্বর থেকে ফোন করে
টাকা দাবি করতে পারে। কিন্তু সিমটি সচল না থাকায় সে আর ফোন করতে পারেনি।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করলেও আবীর পুলিশকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করেছিল। তবে
আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেই মূলত সে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত স্বীকার করে আলামত কোথায় আছে তা
পুলিশকে জানায়।
আবীর পুলিশকে জানায়, মা-বোনকে আয়াতের বাসায় পাঠিয়ে সে রাতে একটি কাটার ও কিছু পলিথিন কেনে।
কাটার দিয়ে আয়াতকে কেটে টুকরো করতে না পেরে বাসায় থাকা বঁটি দিয়েই শরীর থেকে হাত, পা ও মাথা
বিচ্ছিন্ন করে। এরপর পলিথিনে মুড়িয়ে স্কচ টেপ দিয়ে পুনরায় মালামাল রাখার শেডে রেখে দেয়। পরদিন সকালে
ও রাতে সাগর সংলগ্ন একটি নালায় তিনটি করে ছয়টি প্যাকেট ফেলে দেয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা জানান, আশপাশের বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আর স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেশী আবীরকে আটক করা হয়। তাকে বিভিন্ন
সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে আয়াতকে খুন করে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে
দেওয়ার কথা স্বীকার করে।
পুলিশ সুপার জানান, আবীরের বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি তার মা আকমল আলী সড়কের
পকেট বাজার এলাকায় আলাদা একটি বাসা ভাড়া নিয়েছেন। তবে বাবা এখনো আয়াতদের বাড়িতেই থাকেন।
সে জানিয়েছে, ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’ও ‘সিআইডি’ তার পছন্দের সিরিয়াল। মূলত সেসব
অনুষ্ঠান দেখেই মুক্তিপণ আদায়, মরদেহ গুম, আলামত নষ্ট সবকিছুই সেখান থেকে শিখেছে বলে জানিয়েছে
আবীর।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com