বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
ঢাবির আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন ‘নাইট কোর্স’ চালুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা
ঢাবির আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন ‘নাইট কোর্স’ চালুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন ‘নাইট কোর্স’ চালুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে আইন বিভাগে বাণিজ্যিক কোর্স বাতিলের দাবি জানান তারা।
রোববার দুপুর ১২টায় কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের আইন অনুষদের মাঠে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। এর আগে তারা অনুষদজুড়ে ‘শিক্ষা-ব্যবসা, একসাথে চলবে না’, ‘শিক্ষার নামে সার্টিফিকেট বাণিজ্য চলবে না’ প্রভৃতি স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সম্প্রতি ‘প্রফেশনাল মাস্টার অব লজ’ নামে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বৈকালিক মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালুর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আইন বিভাগ। এতে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫০ অথবা দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতকে উত্তীর্ণদের (দুই বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন) মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন।
তারা বলেছেন, এর আগে ২০১৭ এরকম কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে বন্ধ হয়। এই কোর্স চালু হলে বিভাগের শিক্ষার মান নষ্ট হবে। বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী পেতে ন্যূনতম সিজিপিএ এত কম দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে আইন বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, বিভাগে দেখা যায় অনার্সের ফল প্রকাশিত হয়নি অথচ মাস্টার্সের পরীক্ষা হয়ে গেছে। প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশিত হয়নি অথচ দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা হয়ে গেছে। যে শিক্ষকরা বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কলোড নিতে পারছেন না। তারা কীভাবে অন্য কোনো কোর্সে ক্লাস নেবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করতে বলেছেন। অথচ আইন বিভাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ নাইট কোর্স বা অনিয়মিত কোর্স রাখার ব্যাপারে খুবই মরিয়া। তারা ভালো পরিবেশকে ময়লা ফেলে দূষিত করতে চান।
আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী রাকিব হোসাইন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের সারাবছরে পর্যাপ্তসংখ্যক ক্লাস নিতে পারেন না, অথচ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে ঠিকই সময়মতো হাজির হন। প্রফেশনাল মাস্টার্স খুলে টাকা কামিয়ে তারা প্রচুর উন্নতি করে ফেলবেন, এ কথা আমরা বিশ্বাস করি না। এই পুরোপুরি বাণিজ্যিক উদ্যোগ আইন বিভাগে বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের ক্লিনিক্যাল লিগ্যাল এইড প্রোগ্রাম, মুট কোর্ট প্রোগ্রাম- এগুলো তহবিলের অভাবে দিনের পর দিন বন্ধ হয়ে আছে। তাই শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় প্রস্তাব আসে। এটা বিভাগের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তারা যদি তাদের বক্তব্যগুলো আমাদের লিখিতভাবে জানায়, তাহলে আমরা অবশ্যই একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়গুলো তুলে ধরব।
Leave a Reply