জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সোমবার (২২ মে) রাজধানী জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও।
বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নির্দেশে মহানগরের অন্তর্গত প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরসহ নগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।
সোমবার বিকেলে ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৬১০টি ইউনিট, ৭৫টি ওয়ার্ড ও ২৪টি থানা এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ড ও ২৬টি থানায় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ প্রকাশ্য জনসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে সোমবার (২২ মে) দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এ কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য সাংগঠনিক নির্দেশ দেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে, অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, খুনের রাজনীতিই বিএনপির ইতিহাস।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) হত্যার রাজনীতি করে। জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের ২২ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন। খালেদা জিয়াও হত্যার রাজনীতি করেছেন। শুধু ২১ আগস্ট নয়, বিএনপির পরিচালনায় আমাদের আরও অনেক কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছিল।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরেও বেগম খালেদা জিয়া হত্যার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। তারা এ দেশের নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে৷ তাদের রাজনীতি হচ্ছে হত্যা, খুন, বিশৃঙ্খলার রাজনীতি। তাদের মনের কথা, প্রাণের কথা হচ্ছে, হত্যার রাজনীতি। সেটাই ওই রাজশাহীর আহ্বায়ক মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন।’
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এ সময় শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকিদাতা রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে সংগঠনটি।
পরে বেলা ১২টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করা হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো নৈরাজ্য-অপশক্তিকে এখন থেকে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসন রিপনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে যুবলীগ। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন শেখ আজগর নস্করের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কৃষক লীগ। বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহিলা আওয়ামী লীগও।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সোমবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে এ ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষকনেতারা।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেটির নিন্দা জ্ঞাপনের ভাষা আমাদের জানা নেই। তাদের এ হুমকির বক্তব্য শুধু জেলা পর্যায়ের একজন নেতার বক্তব্য নয়, এটি গভীর ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।
তিনি বলেন, এর মধ্যে দিয়ে তাদের নীলনকশা প্রণয়ন ও সেই কার্যক্রম শুরু করারই ইঙ্গিত মিলেছে। আজকের এ সমাবেশ থেকে আমি তীব্র নিন্দা জানাই। যে ব্যক্তিটি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ভাষায় হত্যার হুমকি দিয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।
Leave a Reply