কুড়িগ্রামপ্রতিনিধি:
সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ২ শিক্ষার্থীর ক্লাস নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।
যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দের অর্থ কাজ না করে আত্মসাৎ, সভাপতির স্বাক্ষর জাল করা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকক, সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পাঠদানে অনীহা, প্রতিষ্ঠাতার নাম পরিবর্তন ও বিদ্যালয় অন্যত্র নেওয়ার পায়তারাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী শিক্ষক। পরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অনিয়মের অভিযোগ দিলে আমলে না নিয়ে অর্থের মাধ্যমে তার পক্ষে সাফাই গাইছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রধান শিক্ষকের নামে নানা অভিযোগে শিক্ষার্থীরা পাশের মাদরাসা, কিন্ডার গার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। এর ফলে সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমেছে। বর্তমানে শিশু শ্রেণিতে ১২, প্রথম শ্রেণিতে ৯, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৪, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০, চতুর্থ শ্রেণিতে ৯ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জনসহ মোট শিক্ষার্থী ৬১। তাদের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। কিন্তু বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোছা. হোসনে আরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দের স্লীপ, রুটিন মেইনটেন্স, ক্ষুদ্র-মেরামতের অর্থদিয়ে কাজ না করে আত্মসাত করেন প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম। তিনি আরো বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময়ে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কাজ না করে আত্মসাত করেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে হুমকিসহ সভাপতি পদ বাতিল করবেন বলে জানায় প্রধান শিক্ষক। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালেও রহস্যজনক কারনে ব্যবস্থা নেন না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে ৩দিন উপস্থিত হন। বাকি দিনগুলো তিনি বাড়ীর কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি উপস্থিতি না হয়েও হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করেন বলে আমাকে অভিযোগ করেছে শিক্ষকরা এবং আমি নিজেও দেখেছি তিনি স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। কিন্তু এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হওয়ায় তিনি এখন আরো ব্যপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এবং তার এহন কর্মের জন্য স্কুলে দিন দিন ছাত্র ছাত্রী কমে যাচ্ছে।
Leave a Reply