জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
ভোলার চরফ্যাশন থেকে অসুস্থ সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন রুমা। ছেলেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকেলে চিকিৎসককে দেখানোর কথা ছিল। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রওনা দিয়ে দুপুরে সদরঘাট পৌঁছান তারা। সেখান থেকে আসেন টিএসসি। কিন্তু টিএসসি হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে পড়েন বিপাকে।
রুমাকে বহনকারী রিকশাটি শাহবাগমুখী সড়কে পুলিশ আটকে দেয়। রুমা বারবার অনুরোধ করলেও রিকশাটি যেতে দেওয়া হয়নি। শেষমেশ বাধ্য হয়ে তিনি তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে রিকশা থেকে নেমে পড়েন এবং জনতার ভিড় ঠেলে হাসপাতালের দিকে হাঁটতে থাকেন।
দুর্ভোগের শিকার রুমা জানান, ঢাকায় একা এসেছেন। তার বোন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন, তাই আগেই চিকিৎসকের সিরিয়াল নেওয়া ছিল। আজ সমাবেশের বিষয়টি তার জানা ছিল না।
পথ আটকে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে রুমা তার ছেলেকে কোলে নিয়ে রিকশা থেকে নেমে পড়েন। জনতার ভিড় ঠেলে শাহবাগ পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়ান এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে সহায়তা করেন।
রুমা বলেন, ‘ওই ভাইটা না থাকলে আমি হয়তো আজ হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম না। আল্লাহ তাকে ভালো করুক।’
এদিকে, শাহবাগ ও টিএসসি এলাকায় সমাবেশের কারণে আশপাশের হাসপাতালগুলোতে যাওয়ার পথে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী যানবাহন আটকে পড়ে। কোনো কোনো গাড়িকে হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন ও কাটাবন ঘুরে যেতে হয়। অনেক রোগী ও স্বজনদের হেঁটে হাসপাতালে যেতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে এমন জনদুর্ভোগ কেন? কেউ কেউ মন্তব্য করেন, সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হলে এ ভোগান্তি হতো না।
Leave a Reply