ক্রীড়া প্রতিবেদক :
ফাইনালে দাপটের সঙ্গেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথমার্ধে মানিকের করা দুর্দান্ত হেডটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের দিনে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডেকলান সুলিভান।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। ১১ মিনিটে ডান প্রান্তে পাওয়া একটি শর্ট সেট-পিস থেকে বল পান মুর্শেদ আলী। তার হাওয়ায় ভাসানো দারুণ এক ক্রসে হেডে নেপালের গোলরক্ষককে বোকা বানান মানিক। এর ঠিক দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এরপর ২১ মিনিটে সুলিভানের তৈরি করা সুযোগ থেকে নাজমুলের একটি হেড অবিশ্বাস্যভাবে এক হাতে ডাইভ দিয়ে রুখে দেন নেপালি গোলরক্ষক পেম্বা নুরবু।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। রেফারির দেওয়া একটি থ্রো-ইন নিয়ে নেপালের পক্ষে সিদ্ধান্ত গেলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এর প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে গ্যালারিতে থাকা দুই দলের সমর্থকরা একে অপরের দিকে পানির বোতল ছুড়তে শুরু করেন। পরে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এবং মাঠের নিরাপত্তারক্ষীরা মিলে পরিস্থিতি শান্ত করলে পুনরায় খেলা শুরু হয়। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে মুর্শেদ আলীর বুলেট গতির শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে নেপাল। সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। এরই মধ্যে ৫২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কোনো বাধা ছাড়াই মাঝমাঠে ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন গোলদাতা মানিক। শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, বদলি হিসেবে নামেন জয় আহমেদ। ৬৭ মিনিটে একইভাবে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয় সানি দাসকেও।
নেপালের টানা আক্রমণের মুখে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করলেও যুবাদের মূল লক্ষ্য ছিল লিড ধরে রাখা। ৬০ মিনিটে নেপালের বিজ্ঞান খড়কা দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। তার নেওয়া হেড জালের ওপরের দিকে লাগলে অল্পের জন্য বেঁচে যায় বাংলাদেশ। শেষ দিকে লিড ধরে রাখতে সময় নষ্ট করার কৌশলও বেছে নেয় লাল-সবুজের খেলোয়াড়েরা। এর খেসারত হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ইউসুফ আলী।
এদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই বাংলাদেশি সমর্থকদের অধীর অপেক্ষা ছিল যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই যমজ ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভানকে একসঙ্গে মাঠে দেখার। রোনান নিয়মিত খেললেও বেঞ্চেই সময় কাটছিল ডেকলানের। তবে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ডেকলান সুলিভান।
নির্ধারিত সময়ের পর রেফারি ৬ মিনিট যোগ করলে ম্যাচ চরম নাটকীয় রূপ নেয়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে নেপালের অনুভব অন্তত ৩০ গজ দূর থেকে শট নেন। শুয়ে থাকা অবস্থাতেই সেই শট ব্লক করেন ইউসুফ আলী। অন্যদিকে ৯৫ ডেকলানের তৈরি করা দারুণ এক সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বদলি নামা শ্রী সুমন। শেষ পর্যন্ত ওই ১-০ গোলের লিড নিয়েই ফাইনাল নিশ্চিতের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ দল।
Leave a Reply