কিশোরগঞ্জ জেলা, মামুন ভুঁইয়া,
দেশে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন করত এবং সেই অর্থের বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনলাইন নজরদারির সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্ল্যাটফর্মে বিকাশ, নগদ, রকেট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করা হতো।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), বাজিতপুরের সজীব চক্রবর্তী (২৯), কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), ময়মনসিংহের ফুলপুরের মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), নরসিংদীর পলাশের তৈয়ব খান (২৬) ও সৌমিক সাহা (২৮), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মো. কামরুজ্জামান (৩৬) এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আব্দুর রহমান (৪৭)।
সিআইডি জানায়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গত বছরের ১৬ নভেম্বর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রথম চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য ও অনলাইন সার্ভিল্যান্স ডেটা বিশ্লেষণ করে ১৬ মে নরসিংদীর পলাশ ও ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তারা প্রায় ছয় মাস ধরে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা সংগ্রহ করত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই দফা অভিযানে ১৩টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, বিকাশ এজেন্ট সিম এবং বিভিন্ন কুরিয়ার রশিদ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া এজেন্ট সিম সরবরাহেও এই চক্র জড়িত ছিল।
সিআইডি আরও জানায়, চলতি মাসের ১ মে থেকে পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিংয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং অর্থ পাচারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।