নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
সরু নলকূপ বা গর্তে পড়ে যাওয়ার শিশুকে জীবন বাঁচাতে একটি জাদুকরী লোহার খাঁচা আবিষ্কার করেছেন কৃষক তারা মিয়া। সেই উদ্ভাবিত খাঁচার সাহায্যে সরু নলকূপ বা গর্তে পড়ে যাওয়ার শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করবে। এমন এক খাঁচা বানিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছেন নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের ওই কৃষক।
সোমবার(২০ এপ্রিল) দুপুরে কৃষকের গ্রামের বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক মঞ্জির হকের নেতৃত্বে একটি দল ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। সরেজমিনে, কৃষকের আবিষ্কৃত এ খাঁচা যাচাই-বাছাইয়ে সফলতা পেয়েছে। যন্ত্রটি ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খাঁচাটি পরীক্ষায় ফায়ার সার্ভিসের দল কৃষকের আবিষ্কৃত খাঁচায় ক্যামেরা ও লাইট যুক্ত করে ২০ ফুট গভীর এক নলকূপে নামানো হয়। এর আগে ওই নলকূপে ১১ কেজি ওজনের একটি গাছের গুড়ি ফেলা হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে গভীর নলকূপ থেকে গাছের গুড়িটি উদ্ধারে সক্ষম হয় কৃষকের উদ্ভাবিত ওই লোহার খাঁচাটি।
উদ্ভাবিত খাঁচাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফল হওয়ায় এই প্রযুক্তিকে আরও আধুনিক করতে কৃষক তারা মিয়াকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জানা গেছে, কৃষক তারা মিয়ার উদ্ভাবিত এ লোহার খাঁচাটি ১০ থেকে ১২ ইঞ্চির ব্যাস পাইপে ২০০ ফুট গভীর নলকূপ থেকে দ্রুত শিশু উদ্ধার করা সম্ভব। খাঁচাটি পাইপের ভিতরে নামানো হলে নিচের অংশে একটি বিশেষ লক ব্যবস্থার মাধ্যমে পাইপে পড়ে যাওয়া শিশুকে আটকে ফেলে। এরপর সুতা বা রশির সাহায্যে টান দিলে শিশুটি খাঁচায় আটকে পড়বে। রশির সাহায্যে ধীরে ধীরে খাঁচাটি টেনে উপরে ওঠানো হয়। সহজেই তারা মিয়ার আবিষ্কৃত এ যন্ত্রটি দিয়ে গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়ার শিশু প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে কৃষকের এ খাঁচা।
কৃষক তারা মিয়া বলেন, টেলিভিশনে গভীর নলকূপে পড়ে এক শিশু মৃত্যু আমাকে মর্মাহিত করে। সেই থেকে নলকূপ থেকে শিশু উদ্ধারে যন্ত্র তৈরির কাজ শুরু করি। মানুষের হাত তালুবদ্ধ করার ধারণা থেকেই এই প্রযুক্তির চিন্তায় আসে এবং চেষ্টায় যন্ত্রটি তৈরি করি। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় প্রচেষ্টা লোহার খাঁচাটি তৈরি করেন কৃষক।
তিনি আরও জানান, আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দেখতে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের এক দল কর্মকর্তা এসেছেন। তারা এসে যাচাই-বাছাই করেছেন। আমাকে ঢাকায় ডেকেছেন, আমি অনেক খুশি।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক মঞ্জির হক জানান, কৃষকের উদ্ভাবিত যন্ত্রটি আমরা সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এসেছি। গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়া শিশু উদ্ধারে দ্রুত কাজ করবে বলে আশা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা মিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার পর তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে কিছু সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে ভালো একটি ফলাফল পাওয়া সম্ভব। কৃষকের এই উদ্ভাবিত দুর্ঘটনা থেকে শিশু বা প্রাণী উদ্ধারে করবে।
Leave a Reply