চট্টগ্রামপ্রতিনিধি
প্রতিবছরের মতো এবারও আলো ঝলমলে তাজিয়ায় তুলে ধরা হয়েছে কারবালার সেই হৃদয়বিদারক ঘটনাবলি। বিকেল থেকে মোড়ে মোড়ে নারী, শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করেন তাজিয়া দেখার জন্য। রাত সোয়া আটটায় যখন তাজিয়া মিছিল কাজীর দেউড়ি মোড় অতিক্রম করছিল তখন সেখানে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। অপরূপ সাজের তাজিয়াগুলোর ছবি তোলা আর ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল তরুণরা।
শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ‘ইয়া হোসেন’, ‘লাব্বায়িক ইয়া হোসেন’ ধ্বনিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাজিয়া মিছিলটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মিছিলটির সঙ্গে ছিলেন।
এসময় তরুণরা বুক চাপড়ে, ঢোল, বাদ্য বাজিয়ে মাতম করে, শিশুরা রিকশাভ্যানে চড়ে কিংবা মা-বাবার কোল থেকে তাজিয়া মিছিলে অংশ নিয়েছে। পৃথক রিকশাভ্যান থেকে তৃষ্ণার্তদের পানি, শরবত বিতরণ করা হয়। টাইগারপাস, নিউমার্কেট, কাজীর দেউড়ি, আলমাস হয়ে মিছিলটি পুনরায় ওয়ারলেসে ফিরে যায়। তাজিয়া মিছিলটিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রায় ৭০ বছর ধরে ওয়ারলেস থেকে এ সুন্নি তাজিয়া মিছিল বের হচ্ছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য শোককে শক্তিতে পরিণত করে সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করা।
এর আগে সকালে হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে নগরের সদরঘাট ইমাম ইমাম বাড়ি থেকে ‘শিয়া ইমামিয়া ইসনা আশারা মুমিনবৃন্দ’র আয়োজনে শোক মিছিল বের হয়। মাওলানা আমজাদ হোসেন এতে নেতৃত্ব দেন। শত শত নারী, শিশুসহ নানা বয়সী শিয়ারা কালো পোশাক পরে, খালি পায়ে এ মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলটি কালীবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমাম বাড়িতে ফিরে যায়। সেখানে দিনব্যাপী শিয়াদের চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা আর প্রার্থনা হচ্ছে।