ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট আসতে দেখেই দৌড়ে পালিয়ে গেল হবু বর। অন্যদিকে ১৪ বছরের কনের স্থলে তার ১৯ বছরের ফুফাতো বোনকে পাত্রী সাজিয়ে সার্টিফিকেট ও জন্মসনদ দেখায় কনের পরিবার। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বিষয়টি ধরা পড়ায় কনের দাদা ও তার ফুফাতো বোনকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত।
শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বড় রায়গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কনের দাদা ও তার ফুফাতো বোনকে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ও কালীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুল্লাহ হাবিব। একই দিনে উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আরো একটি বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ওই টিম।
কালীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুল্লাহ হাবিব জানান, শুক্রবার দুপুরের পর এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে পারেন, পৌর এলাকার বড়রায়গ্রামে একটি বাল্য বিয়ে হচ্ছে। সংবাদ পেয়েই বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি ওই গ্রামের কনের বাড়িতে হাজির হন। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও বরপক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। তখন মেয়ের পরিবার বাঁচতে কনের স্থলে তার ১৯ বছরের ফুফাতো বোনকে কনের আসনে বসিয়ে সার্টিফিকেট ও জন্মসনদ দেখায়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মোবাইল টিমের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মেয়ের দাদা মিন্টু লস্কার কনেকে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বাল্য বিবাহ সম্পাদনে প্রতারণা করায় কনের ফুফাতো বোনকে পাঁচ হাজার ও দাদাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসাথে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা গ্রহণ করা হয়। অপরটি একই দিনে ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে দুপুর দুইটার পর উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নে সিরাজ শেখের বাড়িতে যায় মোবাইলকোট টিম। এ সময়ে বরপক্ষ বিয়ে বাড়িতে এসে না পৌঁছালেও তারা ১৫ বছরের মেয়ের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে করেন। সেইসাথে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্ষন্ত বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ৯৯৯ এর মাধ্যমে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ উপজেলার ধোপাধী গ্রামে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়ে গত ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে কালীগঞ্জে তিনটি বাল্য বিয়ে বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply