নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেখ হাসিনার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘পিতার হাতে স্বাধীন দেশ, কন্যার হাতে উন্নত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা
জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক আরমা দত্ত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মঙ্গলপ্রদীপ। দেশের জন্য কীভাবে নিজেকে বিসর্জন দিতে হয় তিনি দেখিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজগুলো তিনি করে যাচ্ছেন। তার কোনো বিকল্প নেই। কারণ তার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণেই এ দেশ আজ বিশ্বে দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘পিতার হাতে স্বাধীন দেশ, কন্যার হাতে উন্নত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও জীবন দর্শনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন- সংসদ সদস্য আ ক ম সারোয়ার জাহান বাদশা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব আবুল মনসুর, সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ড. এ কে এম নূরুজ্জামান। অনুষ্ঠান সমন্বয়ক ছিলেন সদস্য সচিব ফাতিমা আক্তার লুনা।
সংসদ সদস্য আ ক ম সারোয়ার জাহান বাদশা বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইডেন কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণঅভ্যুস্থানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সাহসিকতা ও দেশপ্রেমকে সঙ্গে নিয়ে চলেন সবসময়। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভোট পেলেও আসন ভাগাভাগিতে রাজনৈতিক কূটচালে হারিয়ে দেওয়া হয় আওয়ামী লীগকে। ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে কয়েক ঘণ্টার জন্য এসেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে গ্যাস চেয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা জবাবে বলেছিলেন, আগে আমি পরীক্ষা করে দেখবো আগামী ৫০ বছরের জন্য আমাদের গ্যাস মজুদ আছে কিনা। তারপর চিন্তা করবো। তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ বিক্রি করে আমি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যেতে চাই না।
ওই নির্বাচনের আগে আবারও এসেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও সেই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদেরও একই কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই সময় খালেদা জিয়া ও মান্নান ভুঁইয়া তাদের বলেছিলেন, তারা যেকোনো শর্তে ক্ষমতায় যেতে চায়। এই হলো শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে পার্থক্য।
আলোচনায় ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন বলে আমরা ভাগ্যবান। তার দূরদর্শী ভূমিকায় করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ছিল। বৈশ্বিক মন্দায় কিছুটা হলেও আমরা স্বস্তিতে আছি। তার সময়োপযোগী নেতৃত্ব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হচ্ছে বিশ্বদরবারেও।
ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনা শুধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি আদর্শের নাম, একটি চেতনার নাম, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের একটি অনুভূতির নাম। তিনি এখন বিশ্বের বিস্ময় এবং বাংলাদেশের অহংকার। তার সততা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও কঠিন পরিশ্রমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনলাইন মুখপত্র ‘মহানগর ডট নেট’ ও ‘মহানগর’ নামে ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে তার জন্মদিনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু সংগঠন দুটি শেখ হাসিনার জন্মদিনেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এই কারণে আগামীতে তার জন্মদিনে সংগঠন দুটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনলাইন মুখপত্র ‘মহানগর ডট নেট’ ও ‘মহানগর’ নামে ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত ‘শেখ হাসিনা তুমি অনন্যা’ এবং স্পিস অ্যান্ড হারমোনির উদ্যোগে তুমি ভূমিকন্যা শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীরা কবিতা, নৃত্য ও পঞ্চ কবির গান পরিবেশন করেন।
Leave a Reply