শিরোনাম :
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রতিমন্ত্রী পিরোজপুর একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তানের জন্ম, অসহায় পরিবারের পাশে প্রতিমন্ত্রী নরসিংদীর কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায়: প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোণা স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কাটার অভিযোগে স্বামী আটক, বললেন ‘অতিষ্ঠ হয়ে করেছি’ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠানে ঐক্য ও সহঅবস্থানে এগিয়ে যাবে : ডিসি মো:রায়হান কবির বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি: আইনমন্ত্রী ২০২৬ সালের বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত টাঙ্গাইলে পাম্পে বোতলে তেল বিক্রি, ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তা মিরসরাইয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ও মূল্য না থাকায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

রোজিনার বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’র মামলা

রোজিনার বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’র মামলা

সচিবালয় প্রতিবেদক :

প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রীয় নথির ছবি তোলার অভিযোগে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখার পর গতকাল রাতে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, রোজিনা ইসলামকে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার রুমে আটকে রাখা হয়। এ সময় রোজিনা ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি। তিনি অসুস্থ হয়ে একাধিকবার বমি করেছেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুরুতর অসুস্থ রোজিনা ইসলামকে পুলিশ ভ্যানে করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। গতকাল দুপুরেই রোজিনা ইসলাম করোনাভাইরাসের টিকা নেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, গতকাল অপরাহ্ণে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে রোজিনা ইসলাম সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দফতরে যান। এ সময় সচিরের দফতরের কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ এনে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে প্রথমে হেনস্তা করা হয়। পরে পিএসের রুমে আটকে রেখে সচিবালয়ে দায়িত্বরত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ সময় সচিব তার দফতরেই ছিলেন। কিন্তু তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনোরকম পদক্ষেপ নেননি। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্তা করে। দীর্ঘ সময় আটকে রাখায় গরমে ও অস্বস্তিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় সচিবালয় বিটে কর্র্মরত সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সচিব কারও সঙ্গে কথা বলেননি।

এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে একাধিকবার রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে এজাহার লিখে তা আবার পরিবর্তন করে থানায় সোপর্দ করতে চেয়েছিল। এ সময় সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরামের নেতারাসহ প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক সচিবের দফতরে তাদের সহকর্মীকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। চেষ্টারত সাংবাদিকরা রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছিলেন। পরে সাংবাদিকরা শাহবাগ থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, উষ্মা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সচেতন নাগরিকরা প্রায় সারাক্ষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সরকারের যে কোনো তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা একজন সাংবাদিকের অধিকার। এতে বাধা দেওয়াই বরং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার অন্তরায়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেও এর কোনো সমাধান করতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন- প্রথম আলোর রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। যতটুকু জেনেছি রোজিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিন্তু এখনো আটকে রাখা হয়েছে, হাসপাতালে নিতে দিচ্ছে না। আমি তাকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। নতুবা উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের অফিস স্টাফদের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। যা দেশের গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com