1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে হঠাৎ ভিডিও বার্তা মোদির

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করার ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই জের ধরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে গালাগালির অভিযোগ তুলে এবং সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, মোদী অভিযোগ করে বলেন, ‘যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। আমাকে গালি দেয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ওই বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কয়েক দিন পর এমন মন্তব্য করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় ২৫ বছর বয়সী এক নারী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

তবে ওই মন্তব্যের পরও মোদি জানান, তিনি মনে করেন না এর সমাধান রাগ বা প্রতিশোধের মধ্যে নিহিত আছে। বরং, তিনি বিক্ষোভকারীদের এমন তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেন যারা নিজেদের ভুল থেকে শিখতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘গালিগালাজ করে কোনো কিছুর সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের পথ দেখাই। আসুন, একসঙ্গে কাজ করি। আসুন, ভারতের জন্য কাজ করি।’

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘শৈশবে ভুল হয়, এবং শৈশবই সেই ভুলগুলো শুধরে নেয়ার সুযোগ করে দেয়। তরুণ বয়স মানেই তো এমন। সমাজে ক্ষোভ আছে এবং আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এই শিশুদের আপন করে নেওয়ার এবং তাদের সঠিক পথ দেখানোর। তারা বিপথগামী শিশু। তাদের পথ দেখানো আমাদের কর্তব্য। তাদের শাস্তি দেয়া, আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং হয়রানি করা পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আনবে না।’

যারা ওই মন্তব্যের জন্য দায়ী, তাদের ক্ষমা করে দিতে চান বলেও জানান মোদি। একই সঙ্গে সমাজকেও তাদের ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে গালাগালির ঘটনায় নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় করা হয় মামলাটি। এসব ধারার মধ্যে শান্তি ভঙ্গের জন্য উসকানি, জনমনে বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য এবং মানহানির অভিযোগের বিষয় রয়েছে।

জিরো এফআইআর হওয়ায় যে এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটি ওই থানার এখতিয়ারের বাইরে হলেও সেখানে প্রাথমিকভাবে মামলা নেয়া হয়। পরে আরও তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যের জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত নয় বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..