1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন

দিনমজুর ও রিকশাচালক আবু তাহেরের ঘরে ‘আলাদিনের চেরাগ’, ছেলে শামীমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে মাদকের বিস্তার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে সেবনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও মাদকের বড় চালান সরবরাহকারী ও নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের সরবরাহ—বরং নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে কারবারিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের কেনাবেচা চলছে। বাজার, অলিগলি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কিশোর ও তরুণরা।

মাদককে ঘিরে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদকাসক্ত স্বজনদের কারণে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
প্রশ্ন উঠছে—প্রতিনিয়ত ছোটখাটো কারবারি বা সেবনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও মাদকের বড় উৎস ও সরবরাহ চেইন কেন পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না? কারা এই মাদক কারবারের নেপথ্যে রয়েছে এবং কীভাবে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, মাদকবিরোধী বিভিন্ন সভা ও কর্মসূচিতে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি করছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাদক উদ্ধার বা খুচরা বিক্রেতা গ্রেপ্তার নয়—মাদকের উৎস, অর্থের প্রবাহ, বড় সরবরাহকারী এবং নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে সুনামগঞ্জে মাদকের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বাঘমারা এলাকায় সীমান্তপথে মাদক এনে সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মো. আব্দুল্লাহ ওরফে শামীমের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় কিশোরদের ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু তাহের ও খুরশেতা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. আব্দুল্লাহ ওরফে শামীম। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নারায়নতলা-ডলুরা ও ইসলামপুর, কান্দিগাঁও, কদমতলী, চিনাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে শামীম স্থানীয় একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছেন। সীমান্ত থেকে সংগ্রহ করা মাদক বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একসময় দিনমজুরি ও রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন আবু তাহের। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল পরিবারটির। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়ের ব্যবধানে তার ছেলে শামীম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর বদলে যেতে থাকে পরিবারের আর্থিক চিত্র।

অভিযোগ রয়েছে, শামীমের কথিত মাদক ব্যবসার আয় থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ঘর, বেড়েছে পারিবারিক স্বচ্ছলতা। স্থানীয়দের ভাষায়, যেন হঠাৎ করেই আবু তাহেরের ঘরে ‘আলাদিনের চেরাগ’ জ্বলে উঠেছে।

এভাবে এলাকায় একটি শক্তিশালী কিশোর গ্যাং বা সংঘবদ্ধ কিশোরচক্র গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, কিশোরদের মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার ফলে এলাকায় মাদক বিস্তারের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতাও বাড়তে পারে
স্থানীয়দের দাবি, শামীমের আয়ের উৎস ও তার কথিত মাদক ব্যবসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্ত প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) চাতক চাকমা বলেন-আমি সরকারি কাজে ঢাকায় মিটিং এ আছি, তবে মাদকের তথ্য প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..