আ: মান্নান পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের কয়েকজন সহকারী প্রকৌশলী ও ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকার সুযোগে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি করেছেন। ফলে উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পাটগ্রাম এলজিডি অফিস সুত্রে জানা যায়, সাব ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ কুমার ৪ বছর, মানিক মিয়া ৫ বছর ও ওয়ার্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট আনোয়ার হোসেন ৭ বছর ও আহসান হাবীব ৫ বছর ধরে পাটগ্রাম এলজিডি অফিসে কর্মরত আছে। বাকি কর্মচারীরা কিছুদিন অন্যত্র চাকরি করার পর পুণরায় পাটগ্রাম উপজেলায় তদবির করে বদলি হয়ে এসেছেন।
এবিষয়ে সাব ইন্জিনিয়ার মানিক মিয়া বলেল, বদলি হওয়ার বিষয়টি আমার উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। স্থানীয় ঠিকাদাদের সাথে সখ্যতার বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন কাজ বুঝে নেওয়ার বাহিরে ঠিকাদারদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। আমিও চাই এখান থেকে চলে যেতে।
এদিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পূর্বে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কিছু ঠিকাদার এখনও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তারা রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে কাজ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সহকারী প্রকৌশলী সৌরভ কুমার এর দায়িত্বে থাকা পাটগ্রাম খেংটি বানিয়াডাঙ্গী পাবসস অফিসের ১০ টি ভিজিট চেয়ার, ১ টি কম্পিউটার টেবিল, ১ টি স্টিল আলমারী, ১ টি অফিস টেবিল ও ১ টি মিটিং টেবিল স্থানীয় এক ঠিকাদারের কাছে জমা রাখলেও পরে পাওয়া যায় নি। অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রকৌশলী সৌরভ কুমার ও ওই ঠিকাদারের যোগসাজশে বিক্রি করা হয়েছে।
বিষয়ট পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন নিশ্চিত হয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে মালামাল ক্রয় করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে এলজিডি অফিস সুত্রে জানাগেছে। এতেই প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চলতি অর্থ বছরে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে এডিবির ৮০ লক্ষ টাকা। কাজের বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের পার্সেন্টেজ বা শতকরা হিসেবে টাকা নেন উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান। এ প্রসঙ্গে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন, তাকে টাকা না দিলে কাজ ভালোভাবে করলেও বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে হয়রানি করেন এবং বিল উত্তোলন করতে স্বাক্ষর নিতে গেলে তিনি হয়রানি করেন, এ কারণেই আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও টাকা দিতে হয়।
অভিযোগ উঠেছে পাটগ্রামের বাউরা ইউনিয়নে ‘অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠির সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতি) প্রকল্প’-এর এক কোটি উনিশ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার কাজে প্রকৌশলী আহম্মেদ হায়দার জামান মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিম্মমানের কাজ করিয়েছেন। এ কাজের চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের বরাদ্দকৃত কাজ কমিয়ে দিয়ে যথোপযুক্ত মজুরি দেননি। শ্রমিক বেশি ও কাজ করার হার বেশি দেখিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী আহম্মেদ হায়দার জামান, ‘অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে দাবি করেন।
লালমনিরহাট জেলা এলজিডি এক্সিয়েন কায়সার আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এটা আমার জানা নেই। কোন ঠিকাদার আমাকে কমিশন নেওয়ার ব্যপারে অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।’
উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কাজের মানও বজায় থাকবে।