1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন

বরগুনার বাঁধ নির্মাণের দেড় মাসেই ধস,আতঙ্কে তালতলীর ১৫ গ্রামের মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত

বরগুনাপ্রতিনিধি:
তালতলী উপজেলায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ ও নদীভাঙন প্রতিরোধের জিও ব্যাগ দেড় মাসের মধ্যেই ধসে পড়তে শুরু করেছে। পায়রা নদীর ভাঙন রোধে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় নির্মিত বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে আতঙ্কে রয়েছেন বাঁধসংলগ্ন ১৫ গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের কাজ করেছে। বাঁধ নির্মাণের সময় নদীর তীর থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে জিও ব্যাগে নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত বালু না ভরে নামমাত্র বালু ও মাটি দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে। কাজ শুরুর সময় এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা হয়। এ জন্য চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আরএস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স কাজগুলো বাস্তবায়ন করে। গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পায়রা নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে ধসে গেছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।

বাঁধটি ভেঙে গেলে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান ও মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর বলেন, প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্র কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে। কাজ শুরুর সময় অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এখন জিও ব্যাগ নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে।

এ বিষয়ে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্সের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের কাজে কোনো গাফিলতি নেই। যে স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি নদীর একটি মোহনা। মোহনার জটিল প্রকৃতির কারণে সেখানে বারবার ভাঙন হচ্ছে। এ স্থানে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের করা কাজের অংশে এখন পর্যন্ত ভাঙন দেখা দেয়নি। অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

মেসার্স আরএস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল বলেন, বেড়িবাঁধের নিচের অংশে বালু থাকায় পানির চাপে লিকেজ তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সাময়িক এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় লোকবল ও সরঞ্জাম নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করা হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, নদীভাঙন রোধে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..