1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৩২ বার পঠিত
৩৭

বান্দরবান প্রতিনিধি,

বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ
বান্দরবান সদর হাসপাতাল
বান্দরবান সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।

কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও সরেজমিনে সেই মালামাল গণমাধ্যমকর্মীদের দেখাতে না পারার অভিযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও আসবাবপত্রসহ ছয়টি খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের গোপন মূল্যকোড পছন্দের ঠিতাদারদের কাছে সরবরাহ করে একটি সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর মাধ্যমে এএসএম নামে এক প্রতিষ্ঠান একাই পাঁচটি এবং আলমগীর নামে আরেকজন ঠিকাদার কার্যাদেশ পান।

গত ১৩ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহ সম্পন্ন করার কথা। বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে ওষুধ ক্রয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ব্যান্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লিনেন ও ফার্নিচার খাতে পৃথকভাবে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।

টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন— সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. দেবরাজ বৈদ্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. উথেন ক্য, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অতনু চৌধুরী, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওষুধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফি থেকে আদায় হওয়া অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। তিনি দাবি করেন, ওই সিন্ডিকেটের মূলহোতা প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক সুভাষ দাশ। একই সঙ্গে নতুন টেন্ডারে সরবরাহ করা ফার্নিচার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

 

এদিকে, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ টানা সাত দিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ছুটির আবেদন করলেও অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এটি এক ধরনের অসহযোগিতা।

টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী বলেন, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল বুঝে নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ করা ওষুধ রোগীদেরও দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই দাবির পরও সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সেই ৯০ শতাংশ মালামাল দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

 

 

অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হওয়ায় এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও দর যাচাই-বাছাই শেষে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার মূল্যায়নে ছয় সদস্যের কমিটি রয়েছে, আমি ওই কমিটির সদস্য নই। একটি প্রভাবশালী মহলের পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পাওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিছু সময় দিন, সব মালামাল গুছিয়ে স্বচ্ছভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..